ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

রাজনৈতিক দলের তোষামোদি না করলে নিরাপত্তা অনিশ্চিত: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১১:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ Time View

রাজনৈতিক দলের তোষামোদি না করলে নিরাপত্তা অনিশ্চিত: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান

চাঁদা না দেওয়ায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা আসেন। ঘটনাস্থল তার স্টুডিওতে উপস্থিত হয়ে সব খোঁজ খবর নিয়ে লাইভে এসে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে।  

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে থাকা স্টুডিওতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হামলাকারীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্টুডিওটির কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। তার দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা আসেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সব খোঁজ-খবর নিয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।

সালমান মুক্তাদির দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক সালমানের ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে ‘ব্রাউনফিশ’ নামের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। স্টুডিওর অবস্থা এখন লণ্ডভণ্ড। হামলার সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হামলায় স্টুডিওতে থাকা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি বলে জানা গেছে।

ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য কাজের উপকরণ রাখা ছিল। সেগুলো নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেননি তিনি।

সালমান বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটা মামলা করতে হবে, ফরমালিটির জন্য। ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরলে, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্ট যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে- এটা চোখ বন্ধ করেও একটা ধারণা করা যায়।’

যদিও আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক বলতে চাননি তিনি।

অন্য একটি ফেসবুক লাইভে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব কমই ছিল এবং হামলায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’ তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশ্যে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ হামলায় কর্মীরা ভেঙে পড়লেও তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তাকে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ করা অনেক তরুণ-তরুণীকে তিনি ভাই-বোনের মতো পেয়েছেন। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী ও স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, স্টুডিওটি নির্মাণের সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজ তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার কাজও করেছেন।

সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’ তিনি কর্মীদেরও স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত। সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব!…বিএনপি জোস কাজ করছে।’

ভিডিওর আরেক অংশে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে কি-না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে- এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

–টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

রাজনৈতিক দলের তোষামোদি না করলে নিরাপত্তা অনিশ্চিত: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান

আপডেট : ১১:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক দলের তোষামোদি না করলে নিরাপত্তা অনিশ্চিত: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান

চাঁদা না দেওয়ায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা আসেন। ঘটনাস্থল তার স্টুডিওতে উপস্থিত হয়ে সব খোঁজ খবর নিয়ে লাইভে এসে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে।  

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে থাকা স্টুডিওতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হামলাকারীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্টুডিওটির কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। তার দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকা আসেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সব খোঁজ-খবর নিয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।

সালমান মুক্তাদির দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক সালমানের ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে ‘ব্রাউনফিশ’ নামের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। স্টুডিওর অবস্থা এখন লণ্ডভণ্ড। হামলার সময় তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হামলায় স্টুডিওতে থাকা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি বলে জানা গেছে।

ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জাম ও অন্যান্য কাজের উপকরণ রাখা ছিল। সেগুলো নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেননি তিনি।

সালমান বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটা মামলা করতে হবে, ফরমালিটির জন্য। ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরলে, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্ট যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে- এটা চোখ বন্ধ করেও একটা ধারণা করা যায়।’

যদিও আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক বলতে চাননি তিনি।

অন্য একটি ফেসবুক লাইভে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব কমই ছিল এবং হামলায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’ তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশ্যে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ হামলায় কর্মীরা ভেঙে পড়লেও তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তাকে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ করা অনেক তরুণ-তরুণীকে তিনি ভাই-বোনের মতো পেয়েছেন। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী ও স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, স্টুডিওটি নির্মাণের সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজ তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার কাজও করেছেন।

সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’ তিনি কর্মীদেরও স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত। সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব!…বিএনপি জোস কাজ করছে।’

ভিডিওর আরেক অংশে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে কি-না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে- এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

–টিভি টুডে