ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৭:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ Time View

সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক

টিভি টুডে ডেস্ক:

চট্রগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর) একটি ২০০ কোটি ডলারের সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানিভিত্তিক শিল্প পার্ক নির্মাণে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রস্তাব করেছে জাপানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সোজিৎজ এবং বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক পাওয়ার।

দেশের বাণিজ্যিক হাব চট্টগ্রামে একটি সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি-ভিত্তিক শিল্প পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে জাপানি কোম্পানি সোজিৎজ কর্পোরেশন এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক। ২০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নের জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের পরিচালক নুরুল আক্তার জানান, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেই পিপিপি মডেলটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটিতে সরকারকে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বলে জানা গেছে।

নুরুল আক্তার বলেন, এ ধরনের বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পিপিপি মডেলটিই সবচেয়ে কার্যকর। এর মাধ্যমে সরকারি তহবিল সংগ্রহ করা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ হয়।

প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রবন্দরের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে ২০২৪ সালের মধ্যে কোম্পানি দু’টিকে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রবন্দরটি গড়ে তুলতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২০০ কোটি ডলারে।

নুরুল আক্তার বলেন, এই বন্দরটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমকে সহায়তা করবে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালে যখন অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোদমে চালু হবে তখন চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে ক্রমবর্ধমান আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সামলানো সম্ভব হবে না। তাই, অর্থনৈতিক অঞ্চলকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেখানে একটি আধুনিক ও দক্ষ সমুদ্রবন্দর থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নুরুল আক্তার জানান, এই বন্দরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কার্গো জাহাজ নোঙর করতে পারবে। যা চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সক্ষমতার (মাত্র ১০ হাজার টন) তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে জেটি বা ইয়ার্ড নির্মাণের আর কোনো সুযোগ নেই। জমি পেতে সোজিৎজ এবং এনার্জিপ্যাক এই দুই কোম্পানি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সাথে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভূমি ইজারা চুক্তি চূড়ান্ত হবার কথা রয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই করবে এবং অর্থের জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থায় (জাইকা) আবেদন করবে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশটির জায়ান্ট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো কর্পোরেশনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সোজিৎজ কর্পোরেশনকে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে  তারা উৎসাহিত করেছে, এতথ্য জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিল্প পার্ক এবং বন্দরের আধুনিকায়ন। বন্দরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল বা পণ্য খালাসের সেবা দিতে সোজিৎজের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা এমন একটি অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে তুলতে চায়-যেখানে মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজগুলো নোঙ্গর করবে।

এ প্রসঙ্গে নুরুল আক্তার জানান, প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে চট্টগ্রাম বন্দর বাল্ক বা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল খালাসের সেবা দিতে পারছে না। সোজিৎজ এই সেবা প্রদান করবে, যা ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনবে।

জাপানি কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কয়লা, খাদ্য এবং বস্ত্রের মতো বিভিন্ন শিল্পে ব্যবসা বাড়াতেও আগ্রহী।

নুরুল আক্তার আরো জানান, এই বন্দর ও শিল্প পার্কটি এক লাখ কর্মসংস্থান এবং লজিস্টিকস ও শিপিংয়ের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, দক্ষ বিদেশি কোম্পানির সহায়তা ছাড়া কোনো বাংলাদেশি কোম্পানির পক্ষে এত বড় প্রকল্পে প্রবেশ করা সত্যিই কঠিন।

-সূত্র ডেইলি স্টার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক

আপডেট : ০৭:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক

টিভি টুডে ডেস্ক:

চট্রগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর) একটি ২০০ কোটি ডলারের সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানিভিত্তিক শিল্প পার্ক নির্মাণে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রস্তাব করেছে জাপানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সোজিৎজ এবং বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক পাওয়ার।

দেশের বাণিজ্যিক হাব চট্টগ্রামে একটি সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি-ভিত্তিক শিল্প পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে জাপানি কোম্পানি সোজিৎজ কর্পোরেশন এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক। ২০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নের জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের পরিচালক নুরুল আক্তার জানান, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেই পিপিপি মডেলটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটিতে সরকারকে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বলে জানা গেছে।

নুরুল আক্তার বলেন, এ ধরনের বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পিপিপি মডেলটিই সবচেয়ে কার্যকর। এর মাধ্যমে সরকারি তহবিল সংগ্রহ করা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ হয়।

প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রবন্দরের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে ২০২৪ সালের মধ্যে কোম্পানি দু’টিকে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রবন্দরটি গড়ে তুলতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২০০ কোটি ডলারে।

নুরুল আক্তার বলেন, এই বন্দরটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমকে সহায়তা করবে।

তিনি জানান, ২০৩০ সালে যখন অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পুরোদমে চালু হবে তখন চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে ক্রমবর্ধমান আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সামলানো সম্ভব হবে না। তাই, অর্থনৈতিক অঞ্চলকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেখানে একটি আধুনিক ও দক্ষ সমুদ্রবন্দর থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নুরুল আক্তার জানান, এই বন্দরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কার্গো জাহাজ নোঙর করতে পারবে। যা চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান সক্ষমতার (মাত্র ১০ হাজার টন) তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে জেটি বা ইয়ার্ড নির্মাণের আর কোনো সুযোগ নেই। জমি পেতে সোজিৎজ এবং এনার্জিপ্যাক এই দুই কোম্পানি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সাথে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভূমি ইজারা চুক্তি চূড়ান্ত হবার কথা রয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই করবে এবং অর্থের জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থায় (জাইকা) আবেদন করবে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশটির জায়ান্ট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো কর্পোরেশনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সোজিৎজ কর্পোরেশনকে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে  তারা উৎসাহিত করেছে, এতথ্য জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কোম্পানিটির মূল লক্ষ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিল্প পার্ক এবং বন্দরের আধুনিকায়ন। বন্দরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল বা পণ্য খালাসের সেবা দিতে সোজিৎজের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা এমন একটি অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে তুলতে চায়-যেখানে মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজগুলো নোঙ্গর করবে।

এ প্রসঙ্গে নুরুল আক্তার জানান, প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে চট্টগ্রাম বন্দর বাল্ক বা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল খালাসের সেবা দিতে পারছে না। সোজিৎজ এই সেবা প্রদান করবে, যা ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনবে।

জাপানি কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কয়লা, খাদ্য এবং বস্ত্রের মতো বিভিন্ন শিল্পে ব্যবসা বাড়াতেও আগ্রহী।

নুরুল আক্তার আরো জানান, এই বন্দর ও শিল্প পার্কটি এক লাখ কর্মসংস্থান এবং লজিস্টিকস ও শিপিংয়ের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি বলেন, দক্ষ বিদেশি কোম্পানির সহায়তা ছাড়া কোনো বাংলাদেশি কোম্পানির পক্ষে এত বড় প্রকল্পে প্রবেশ করা সত্যিই কঠিন।

-সূত্র ডেইলি স্টার