
ফার্নিচার মেলা চলছে-
আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা
টিভি টুডে প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির (বিএফএসএমএস) আয়োজনে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০২৬।
মঙ্গলবার ২৭ (অক্টোবর) আইসিসিবি নবরাত্রি হলে এ মেলার উদ্বোধন হয়। মেলায় দেশের ৪৪টি শীর্ষস্থানীয় ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান ৩২৩টি স্টলে তাদের পণ্য ও আধুনিক নকশা প্রদর্শন করছে।

পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছ, রাজদর্শন ও নবরাত্রি হলে চলছে। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলা উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য থাকছে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ড. কে এম আকতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বাংলাদেশের আসবাবপত্র শিল্প আজ কেবল স্থানীয় চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ফার্নিচার খাতে ইতিবাচক রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা এই শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে আমাদের মোট আসবাবপত্র রপ্তানির বেশিরভাগ অর্ডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বাজার থেকে আসছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মেধা ও সক্ষমতারই প্রমাণ।
হাসান আরিফ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বাইরে মধ্যপ্রাচ্য (যেমন দুবাই) ও দূরপ্রাচ্যের সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে বাণিজ্য প্রসার করতে হবে। ফার্নিচার শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে ইপিবি উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মাধ্যমে কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের মতো প্রধান রফতানি খাতের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের ফার্নিচারের উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দেশে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আসবাবপত্রের বিশাল স্থানীয় বাজার তৈরি হয়েছে। এ বাজারের পুরোটাই এখন দেশীয় শিল্পের দখলে। এই স্থানীয় চাহিদা মেটানোর অর্থ হলো— দেশ থেকে প্রায় সমপরিমাণ বৈচিত্র্যময় বিদেশি পণ্য আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা, যা কেবল রফতানি আয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
বিএফএসএমএসের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান বলেন, দেশীয় ফার্নিচার শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হলে মান, নকশা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাঁচামালের সহজলভ্যতা, অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান ও পরিবেশগত শর্ত পূরণে শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রয়োজন।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএফএসএমএসের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আউয়াল বলেন, জাতীয় ফার্নিচার মেলা দেশীয় নির্মাতাদের জন্য তাদের সর্বশেষ নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবন সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার একটি দারুণ সুযোগ। একই ছাদের নিচে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলোকে একত্র করার মাধ্যমে আমরা ক্রেতাদের নতুন ডিজাইন সম্পর্কে জানার, পণ্য তুলনা করার এবং নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী ফার্নিচার বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি।
মেলায় আখতার, হাতিল, ব্রাদার্স, নাদিয়া, আয়ত, ওমেগা, জেএমজি, নাভানা, অ্যাথেনাস, পারটেক্স, রিগাল ও লেগাসিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে। এ মেলা চলবে ৩১ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত। মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার (ডিটিসি)।
–টিভি টুডে
TV Today HD Desk: 




















