
একযোগে জামায়াত সমর্থিত ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটনি জেনারেলের যে কারণে পদত্যাগ
দীর্ঘদিনের কানাঘোসার পর অবশেষে একযোগে পদত্যাগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োজিত ১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। তবে তাদের পদত্যাগের পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন)১৮আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জামায়াতপন্থি সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ মোট ১৮ জন পদত্যাগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী এসব পদত্যাগপত্র জেনারেলের কার্যালয় হয়ে আইন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। এরপর আইন মন্ত্রনালয় থেকে পত্রগুলো রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই তাদের নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হবে।
অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চয় হওয়া যায়,জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে জামায়াতপন্থি সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন।
সুত্রমতে,পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়ার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, আমি এই মর্মে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে আমার পদত্যাগপত্র পেশ করছি। এই দায়িত্বে থেকে প্রজাতন্ত্রের সেবা করা এবং আমার ওপর অর্পিত কর্তব্যগুলো পালন করা আমার জন্য একটি বিশেষ সম্মানের বিষয় ছিল। তবে গভীর বিবেচনার পর আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রম ও অবস্থানের সঙ্গে মৌলিক মতপার্থক্যের কারণে আমি আর এই পদে বহাল থাকতে পারছি না। জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে প্রণীত জুলাই সনদ (জুলাই চার্টার) বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সরকারের অবস্থানও আমার উদ্বেগের কারণ। তদুপরি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ (সুপ্রিম কোর্ট জাজেস এপয়েনমেন্ট অর্ডিনেন্স) বাতিল করা হয়েছে, যা আমার বিনীত মতে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থাগুলোকে দুর্বল করেছে। এই ঘটনাবলি সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের সংরক্ষণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বিবেকের তাড়নায় আমি আমার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে নিজেকে অসমর্থ মনে করছি। অতএব, আমি বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করছি এবং আমার এই পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে পদত্যাগ করা বিরোধী দলীয় সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন—অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল করিম, অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট গোলাম রহমান ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম।
পদত্যাগ করা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন—অ্যাডভোকেট ইমরুল কায়েছ রানা, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির তানিম, অ্যাডভোকেট আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, অ্যাডভোকেট জোয়াদুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামসিল আরেফিন, অ্যাডভোকেট মাহাবুবা আক্তার রলি, অ্যাডভোকেট নূর নবী উজ্জ্বল, অ্যাডভোকেট আল রেজা আমির, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।
TV Today HD Desk: 
























