ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ জনরোষে বন্ধ কাজ

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৪:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ১১৯ Time View

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ জনরোষে বন্ধ কাজ

কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে হাতের টানেই। কোথাও আঙ্গুলের চাপেই ঝুর-ঝুর করে খসে পড়ছে কারপেটিংয়ের আস্তরণ। কোটি কোটি টাকার এলজিইডির সরকারি প্রকল্পে এমন চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  

খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে উপজেলার উত্তর মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ কেয়ার অভিমুখী সড়কে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে পিচ উঠে গেছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা দিয়েছে।

এদিকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পিচ ঢালাই দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রাইমকোড ছাড়াই সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে গেছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উত্তর মাদারবাড়িয়া সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের কথা ছিল।

২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রকল্পটি পুনর্বিন্যাস (রিপ্যাকেজিং) করে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দেওয়া হয় এবং উত্তর মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য নতুন সময় ও সংশোধিত বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান সরদার, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পাথরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। যথাযথ প্রাইমকোট ছাড়াই পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাস্তার ওপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করেই কাজ করা হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহ আগে দেওয়া পিচও সহজেই উঠে যাচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বরং পিচ ঢালাইয়ের সময় স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান।

স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই বিলের বড় একটি অংশ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকার লোকজন কাজে বাধা দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী (সাব-ঠিকাদার) হাসান শেখ বলেন, ঠিকমতো প্রাইম কোড করা হয়েছিল, তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। আমরা ১৮ মাইল এলাকার বাবলু ভাইয়ের প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করছি। যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হবে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বলেন, রাস্তার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। বিটুমিনের রাস্তা জমাট বাঁধতে কিছু দিন সময় লাগে। কিছু অংশে প্রাইমকোড করা হয়েছিল। সেখানে পরিমাণে কম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রুটিপূর্ণ স্থানে পুনরায় প্রাইমকোড করে ঢালাই দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ জনরোষে বন্ধ কাজ

আপডেট : ০৪:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ জনরোষে বন্ধ কাজ

কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে হাতের টানেই। কোথাও আঙ্গুলের চাপেই ঝুর-ঝুর করে খসে পড়ছে কারপেটিংয়ের আস্তরণ। কোটি কোটি টাকার এলজিইডির সরকারি প্রকল্পে এমন চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  

খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে উপজেলার উত্তর মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ কেয়ার অভিমুখী সড়কে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে পিচ উঠে গেছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা দিয়েছে।

এদিকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পিচ ঢালাই দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রাইমকোড ছাড়াই সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে গেছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উত্তর মাদারবাড়িয়া সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের কথা ছিল।

২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রকল্পটি পুনর্বিন্যাস (রিপ্যাকেজিং) করে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দেওয়া হয় এবং উত্তর মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য নতুন সময় ও সংশোধিত বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান সরদার, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পাথরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। যথাযথ প্রাইমকোট ছাড়াই পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাস্তার ওপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করেই কাজ করা হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহ আগে দেওয়া পিচও সহজেই উঠে যাচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বরং পিচ ঢালাইয়ের সময় স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান।

স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই বিলের বড় একটি অংশ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এলাকার লোকজন কাজে বাধা দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী (সাব-ঠিকাদার) হাসান শেখ বলেন, ঠিকমতো প্রাইম কোড করা হয়েছিল, তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। আমরা ১৮ মাইল এলাকার বাবলু ভাইয়ের প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করছি। যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হবে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বলেন, রাস্তার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। বিটুমিনের রাস্তা জমাট বাঁধতে কিছু দিন সময় লাগে। কিছু অংশে প্রাইমকোড করা হয়েছিল। সেখানে পরিমাণে কম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রুটিপূর্ণ স্থানে পুনরায় প্রাইমকোড করে ঢালাই দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।