
গ্যাস সংকট ও ‘ভূতুড়ে’ বিলের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচিতে নারীরা
দেশে চলমান বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’ জ্বালানি তেল ও তীব্র গ্যাস সংকটে জ্বলে না চুলা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি সে সাথে যোগ হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি; এসবের প্রতিবাদে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসুচিতে গ্যাসের চুলা ও হাড়ি পাতিল নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য নারীরা। কর্মসূচিতে অবস্থান নেওয়া নারীদের হাতে গ্যাসের চুলা ও রান্নার হাড়ি-পাতিল সবার দৃষ্টি কাড়ে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টনে কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন, তাঁরা সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করে স্লোগান দেন। এসময় পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
রহিমা বেগম নামে নামে এক নারী বলেন, গ্যাসের অভাবে আমরা বাড়িতে রান্না করতে পারি না। ছেলে-মেয়েদের বাহিরের খাবার কিনে খাওয়াতে হয়। যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ তারা খাবার কিনতে গিয়ে হিমশিম খায়। তাই অবিলম্বে সরকার যদি গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা না করতে পারে তাহলে সরকার তাদের গদি ছেড়ে দিক।
১১ দলীয় জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১০ দফা জনদাবি তুলে ধরেন নেতারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল, অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও পুনরায় চালুর সময়সূচি প্রকাশের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর পরিকল্পনা ঘোষণারও দাবি জানানো হয়।
জোটের ১০ দফা দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা, এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান জোটের নেতারা।
TV Today HD Desk: 
























