
মেয়র-মন্ত্রি-এমপি থাকি বা না থাকি, জনগণের জন্য রাজনীতি করব: ইশরাক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের কোনো পদে থাকা না থাকার চেয়ে জনগণের সঙ্গে থাকা এবং তাদের জন্য কাজ করাকেই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র-মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য পদ সাময়িক হলেও জনগণের মনে স্থান করে নেওয়া এবং তাদের ভালোবাসা ধরে রাখাকে তিনি স্থায়ী বিষয় হিসেবে দেখেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দয়াগঞ্জ সুইপার কলোনিতে গণেশ পূজা উদ্যাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, এই কলোনির বাসিন্দারা ঢাকার দৈনন্দিন পরিস্থিতি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শহরকে বাসযোগ্য করে রাখার জন্য তাদের প্রতি ঢাকা শহরের প্রত্যেক নাগরিকের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
মন্দির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, ‘আমি আপনাদের এর আগেও কথা দিয়ে এসেছি, আবারও কথা দিচ্ছি এটা যখনই আমার আয়ত্তে আসবে, অবশ্যই আপনাদের এই মন্দির আমি নির্মাণ করে দেব।’
তিনি বলেন, এখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তিনি এই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং এলাকার মানুষ ভোট দিয়ে তাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে তিনি বিষয়টি দেখবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিশ্বাসী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শ অনুযায়ী এ দেশের সব নাগরিক দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বি শেষে সমান নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সবার সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
কলোনির মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ শুরু করার জন্য কিছু অনুদান আনার চেষ্টা করবেন। পুরো কাজ শেষ করতে কত টাকা প্রয়োজন, তা তার সঠিক জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমানে যে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে কাজটি শুরু করা গেলে বাকিটাও হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সারা দেশের গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, বর্তমানে যে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিএনপি তৈরি করেনি। বিগত ১৭ বছর ধরে চলে আসা লুটপাটের উত্তরাধিকার হিসেবে এই পরিস্থিতি পেয়েছে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় গ্যাসের সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে।
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন, আমাদেরকে কিছুটা সময় দেন। কিছুটা সময় দিতে হবে প্রত্যেকটি সমস্যার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধান করার জন্য।’
ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে উদ্যোগ ও নীতিমালা গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে। এসব ব্যবস্থা এক রাতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, এগুলো তৈরি করতেও কিছুটা সময় লাগে।
কলোনির বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল মওকুফের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। এরপর কোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কীভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে তাঁদের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করানোর জন্য শতভাগ চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বসে থাকব। যতক্ষণ না পর্যন্ত উনি বিল মওকুফ করার নির্দেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে না দেবেন, বসে থাকব। উনার রুমের সামনে মাটিতে বসে থাকব আপনাদের জন্য।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আপনারাই আমাকে বানিয়েছেন এমপি। আপনাদের কারণে আজকে মন্ত্রী হয়েছি। তো আপনাদের জন্য যদি এতটুকু না করতে পারি, তাহলে তো আমার রাজনীতি করারই দরকার নেই।’
মেয়র হিসেবে তাকে দেখতে চান অনুষ্ঠানে নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি মেয়র থাকি বা না থাকি, মন্ত্রী থাকি বা না থাকি, এমপিও থাকি বা না থাকি আজীবন জনগণের জন্য রাজনীতি করার পর এবং সেই কাজটি আমি করে যাব।’
তিনি বলেন, এসব পদ সাময়িক। জনগণের মনে স্থান করে নিতে পারলে এবং তাদের ভালোবাসা ধরে রাখতে পারলে সেটিই চিরস্থায়ী। দেশ ও জাতির উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যা যা করা দরকার, সে জন্য তিনি জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছেন। এখন মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আরও বেশি প্রয়োজনীয় ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
কলোনির বাসিন্দাদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা তাদের উৎসব পালন করবেন। এই দেশ সবার এবং কোনো নাগরিকের প্রতি কারও রক্তচক্ষু দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল ইসলাম টিপু, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব অপু ঢালী সহ স্থানীয় বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
–টিভি টুডে
TV Today HD Desk: 
























