ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৯:৩১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ Time View

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদিয় স্থায়ী কমিটি

মো. হুমায়ূন কবীর:

দেশের প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসায়ী ও খাদ্য স্থাপনার তথ্য নিয়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধ, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম নজরদারি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ৩ হাজার ৭৩২ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পথখাবার বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন এবং নমুনা পরীক্ষার তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম, খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও আমদানি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরের ১৪ হাজার ৫৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণক্ষমতা, যানবাহন ও নজরদারির ঘাটতি খাদ্য ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে নতুন গুদাম নির্মাণ, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১৩ অক্টোবর সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৫ টন। এর মধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ টন, গম ৩ লাখ ৭ হাজার ৯১৮ টন এবং ধান ৫ হাজার ৪২১ টন। স্বাভাবিক সময়ে নিরাপদ খাদ্য মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ টন। অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামগুলোর কার্যকর সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ ৯৩ হাজার টন। অর্থবছর শেষে মজুত প্রায় ২৪ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অধিদপ্তর। ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিমাণ ২২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৭ লাখ টন এবং সংরক্ষণক্ষমতা ২৬ লাখ ৬২ হাজার টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

চাল আমদানির জন্য কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। গম আমদানির জন্য ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই মেয়াদের সমঝোতা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ লাখ টন চাল ও আট লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৪ টন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ করা রপ্তানির পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়। এর মধ্যে ১২৯টি প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৯ দশমিক ৪৩ টন চাল রপ্তানি করেছে। আগের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রপ্তানি না হওয়া ১১ হাজার ৮০০ টনের সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার মূল্যে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অক্টোবর ২০২৬ মাসে সাধারণ ওএমএস কার্যক্রমে ১ হাজার ১২৩টি কেন্দ্রে দৈনিক ১ হাজার ২২০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাসিক চালের বরাদ্দ ২৩ হাজার ১৮০ টন। অন্যদিকে ১ হাজার ১২৫টি কেন্দ্রে দৈনিক ১ হাজার ৪৮৩ দশমিক ৫০ টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাসিক আটার বরাদ্দ ২৮ হাজার ১৮৭ টন, যা ৩৬ হাজার ৬০৬ টন গমের সমপরিমাণ।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় ৩২৫টি কেন্দ্রে চাল ও আটা বিতরণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। জুলাই ও আগস্ট ২০২৬-এ এসব এলাকায় মোট ৯ হাজার ৮৮০ টন চাল এবং ৫ হাজার ৩২৯ দশমিক ৫৭ টন গমের সমপরিমাণ আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বছরে ছয় মাস—মার্চ, এপ্রিল, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির উপকারভোগী পরিবার ৫৫ লাখ। এর মধ্যে ৫০৩টি উপজেলার ৩০০টিতে পুষ্টিচাল বিতরণের কার্যক্রম রয়েছে। ২৪৮টি উপজেলায় পুষ্টিচাল কার্যক্রম চালু থাকার তথ্যের পাশাপাশি আরও ৪৪টি উপজেলা যুক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা ৩০০ হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আরও ৫০টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ বিভাগের কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে।

পুষ্টিচালে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৯ বা ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিঙ্ক মেশানো হয়। পুষ্টিচাল বিতরণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং উপকারভোগীদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনাও রয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখা, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। উপস্থাপিত হিসাবে ভিজিডির উপকারভোগী ১০ লাখ ৪০ হাজার, ভিজিএফের ১৮ লাখ, ওএমএসের ১৫ লাখ, টিসিবির ৬৭ লাখ এবং চা-শ্রমিকদের বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির উপকারভোগী ১ লাখ ১৫ হাজার। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি খাতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ নেই বলে জানানো হয়েছে।

খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, নতুন গুদাম স্থাপন ও পুরোনো গুদাম মেরামতের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খাদ্য অধিদপ্তর। সাতটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মোট ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টন। এর মধ্যে পাঁচটির নির্মাণ ও হস্তান্তরের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও আশুগঞ্জের সাইলো নির্মাণ শেষ হলে আরও ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ টন ধারণক্ষমতা বাড়বে। এ ছাড়া আট বিভাগের ৫৩টি জেলায় ১৪৫টি স্থানে ১৯৫টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬টি গুদামের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৫৫টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় খাদ্য বিতরণ, ভেজাল প্রতিরোধ, আমদানিতে স্বচ্ছতা, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কর্মপরিকল্পনার আওতায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ৪৯২টি মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন গুদাম নির্মাণ, পুরোনো গুদাম মেরামত এবং খাদ্য স্থাপনা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে। জনবল বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপ্রাপ্ত ৪৫৩টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়।

–টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে

আপডেট : ০৯:৩১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদিয় স্থায়ী কমিটি

মো. হুমায়ূন কবীর:

দেশের প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসায়ী ও খাদ্য স্থাপনার তথ্য নিয়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধ, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম নজরদারি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ৩ হাজার ৭৩২ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পথখাবার বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন এবং নমুনা পরীক্ষার তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম, খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও আমদানি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য অধিদপ্তরের ১৪ হাজার ৫৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণক্ষমতা, যানবাহন ও নজরদারির ঘাটতি খাদ্য ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে নতুন গুদাম নির্মাণ, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১৩ অক্টোবর সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৫ টন। এর মধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ টন, গম ৩ লাখ ৭ হাজার ৯১৮ টন এবং ধান ৫ হাজার ৪২১ টন। স্বাভাবিক সময়ে নিরাপদ খাদ্য মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ টন। অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামগুলোর কার্যকর সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ ৯৩ হাজার টন। অর্থবছর শেষে মজুত প্রায় ২৪ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অধিদপ্তর। ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিমাণ ২২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৭ লাখ টন এবং সংরক্ষণক্ষমতা ২৬ লাখ ৬২ হাজার টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

চাল আমদানির জন্য কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। গম আমদানির জন্য ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই মেয়াদের সমঝোতা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ লাখ টন চাল ও আট লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ১৪ হাজার ১৫৪ টন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ করা রপ্তানির পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়। এর মধ্যে ১২৯টি প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৯ দশমিক ৪৩ টন চাল রপ্তানি করেছে। আগের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রপ্তানি না হওয়া ১১ হাজার ৮০০ টনের সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার মূল্যে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অক্টোবর ২০২৬ মাসে সাধারণ ওএমএস কার্যক্রমে ১ হাজার ১২৩টি কেন্দ্রে দৈনিক ১ হাজার ২২০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাসিক চালের বরাদ্দ ২৩ হাজার ১৮০ টন। অন্যদিকে ১ হাজার ১২৫টি কেন্দ্রে দৈনিক ১ হাজার ৪৮৩ দশমিক ৫০ টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাসিক আটার বরাদ্দ ২৮ হাজার ১৮৭ টন, যা ৩৬ হাজার ৬০৬ টন গমের সমপরিমাণ।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় ৩২৫টি কেন্দ্রে চাল ও আটা বিতরণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। জুলাই ও আগস্ট ২০২৬-এ এসব এলাকায় মোট ৯ হাজার ৮৮০ টন চাল এবং ৫ হাজার ৩২৯ দশমিক ৫৭ টন গমের সমপরিমাণ আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বছরে ছয় মাস—মার্চ, এপ্রিল, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির উপকারভোগী পরিবার ৫৫ লাখ। এর মধ্যে ৫০৩টি উপজেলার ৩০০টিতে পুষ্টিচাল বিতরণের কার্যক্রম রয়েছে। ২৪৮টি উপজেলায় পুষ্টিচাল কার্যক্রম চালু থাকার তথ্যের পাশাপাশি আরও ৪৪টি উপজেলা যুক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা ৩০০ হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আরও ৫০টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ বিভাগের কাছে বাজেট চাওয়া হয়েছে।

পুষ্টিচালে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন বি৯ বা ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিঙ্ক মেশানো হয়। পুষ্টিচাল বিতরণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং উপকারভোগীদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনাও রয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখা, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। উপস্থাপিত হিসাবে ভিজিডির উপকারভোগী ১০ লাখ ৪০ হাজার, ভিজিএফের ১৮ লাখ, ওএমএসের ১৫ লাখ, টিসিবির ৬৭ লাখ এবং চা-শ্রমিকদের বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির উপকারভোগী ১ লাখ ১৫ হাজার। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি খাতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ নেই বলে জানানো হয়েছে।

খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, নতুন গুদাম স্থাপন ও পুরোনো গুদাম মেরামতের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খাদ্য অধিদপ্তর। সাতটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মোট ধারণক্ষমতা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টন। এর মধ্যে পাঁচটির নির্মাণ ও হস্তান্তরের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও আশুগঞ্জের সাইলো নির্মাণ শেষ হলে আরও ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ টন ধারণক্ষমতা বাড়বে। এ ছাড়া আট বিভাগের ৫৩টি জেলায় ১৪৫টি স্থানে ১৯৫টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬টি গুদামের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৫৫টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় খাদ্য বিতরণ, ভেজাল প্রতিরোধ, আমদানিতে স্বচ্ছতা, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কর্মপরিকল্পনার আওতায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ৪৯২টি মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন গুদাম নির্মাণ, পুরোনো গুদাম মেরামত এবং খাদ্য স্থাপনা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলছে। জনবল বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপ্রাপ্ত ৪৫৩টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়।

–টিভি টুডে