ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড, ৬ মাসে ১২.৮ বিলিয়ন ডলার

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৭:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৯ Time View

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড, ৬ মাসে ১২.৮ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীর ও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস।

দূতাবাস বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

এতে বলা হয়, তাজা আম ও কাঁঠালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি পণ্য চীনা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের জন্য বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দূতাবাস জানায়, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চীনের বিনিয়োগকৃত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ চালু করা হয়েছে এবং এটি মোট ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ আকর্ষণ করেছে। এই অঞ্চলটি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ শক্তি শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

অবকাঠামো খাতের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে দূতাবাস পদ্মা সেতুকে একটি বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে চীনা কোম্পানির নির্মিত এই সেতুটি ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে। এই সেতুটি বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১.২৩ শতাংশীয় পয়েন্ট অবদান রাখবে এবং দারিদ্র্যের হার ০.৮৪ শতাংশ কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, চীনা কোম্পানিগুলো কয়লাভিত্তিক, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বর্তমানে চীন-সহায়তাপুষ্ট বেশ কয়েকটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৬-এর সংস্কারকাজ।

দূতাবাস জানায়, একটি সাধারণ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের আবাসিক হল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৯ এবং একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে। এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত ছিল ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ, বার্ন চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটর, রোবোটিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম এবং বন্যা-ত্রাণ সামগ্রী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীন ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজেও সহায়তা দিয়েছে। এই উদ্যোগগুলো প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সুরক্ষায় দেশটির অবদানেরই প্রতিফলন।

–টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড, ৬ মাসে ১২.৮ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ০৭:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড, ৬ মাসে ১২.৮ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীর ও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস।

দূতাবাস বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

এতে বলা হয়, তাজা আম ও কাঁঠালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি পণ্য চীনা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের জন্য বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দূতাবাস জানায়, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চীনের বিনিয়োগকৃত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ চালু করা হয়েছে এবং এটি মোট ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ আকর্ষণ করেছে। এই অঞ্চলটি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ শক্তি শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

অবকাঠামো খাতের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে দূতাবাস পদ্মা সেতুকে একটি বড় প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে চীনা কোম্পানির নির্মিত এই সেতুটি ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে। এই সেতুটি বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১.২৩ শতাংশীয় পয়েন্ট অবদান রাখবে এবং দারিদ্র্যের হার ০.৮৪ শতাংশ কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, চীনা কোম্পানিগুলো কয়লাভিত্তিক, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বর্তমানে চীন-সহায়তাপুষ্ট বেশ কয়েকটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৬-এর সংস্কারকাজ।

দূতাবাস জানায়, একটি সাধারণ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের আবাসিক হল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৯ এবং একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে। এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত ছিল ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ, বার্ন চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটর, রোবোটিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম এবং বন্যা-ত্রাণ সামগ্রী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীন ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজেও সহায়তা দিয়েছে। এই উদ্যোগগুলো প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সুরক্ষায় দেশটির অবদানেরই প্রতিফলন।

–টিভি টুডে