ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স পেল ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১২:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫২ Time View

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স পেল ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 

দীর্ঘ চেষ্টা ও প্রতিক্ষার পর অবশেষে  দেশের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টি ও লাইসেন্স পেল। এই লাইসেন্স পাওয়ার ফলে সংগঠনটি এখন থেকে বাংলাদেশে তার অফিশিয়াল কার্যক্রম এবং ব্যবসায়িক এজেন্ডাগুলো আইন সম্মতভাবে পরিচালনা করতে পারবে। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো এটি একটি স্বীকৃত জাতীয় শিল্প সংগঠনের অধীনে আসছে। বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার (বিএমএটিএস)-কে বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে টি ও লাইসেন্স দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পের জন্য নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ, মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা গত ২১ জুলাই সংগঠনটিকে লাইসেন্স নম্বর ০৯/২০২৬ প্রদান করে। প্রস্তাবিত সংগঠনের তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই ও তদন্ত শেষে অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পাবে।

এই সেক্টরে বিনিয়োগকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে দেশে ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের কারণে এই খাতের গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সেক্টরের বাজার সংশ্লিষ্টরা কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ক্রয়নীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত প্রতিনিধিত্বের অভাব অনুভব করছিলেন।

সদ্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংগঠনটি শিল্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন, নীতিগত সহায়তা আদায় এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও সংগঠনটি কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিধি অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিক ৬০ দিনের মধ্যে যৌথমূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে নিবন্ধন সম্পন্ন করা, স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন এবং ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন।

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার সরবরাহ করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, একটি শক্তিশালী শিল্প সংগঠন গড়ে ওঠার ফলে নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বিএমএটিএসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুধু একটি নতুন সংগঠনের সূচনা নয়; বরং দেশের বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পকে আরো সংগঠিত, আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স পেল ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 

আপডেট : ১২:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স পেল ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 

দীর্ঘ চেষ্টা ও প্রতিক্ষার পর অবশেষে  দেশের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টি ও লাইসেন্স পেল। এই লাইসেন্স পাওয়ার ফলে সংগঠনটি এখন থেকে বাংলাদেশে তার অফিশিয়াল কার্যক্রম এবং ব্যবসায়িক এজেন্ডাগুলো আইন সম্মতভাবে পরিচালনা করতে পারবে। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো এটি একটি স্বীকৃত জাতীয় শিল্প সংগঠনের অধীনে আসছে। বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার (বিএমএটিএস)-কে বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে টি ও লাইসেন্স দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পের জন্য নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ, মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা গত ২১ জুলাই সংগঠনটিকে লাইসেন্স নম্বর ০৯/২০২৬ প্রদান করে। প্রস্তাবিত সংগঠনের তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই ও তদন্ত শেষে অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পাবে।

এই সেক্টরে বিনিয়োগকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে দেশে ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের কারণে এই খাতের গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে সেক্টরের বাজার সংশ্লিষ্টরা কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ক্রয়নীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত প্রতিনিধিত্বের অভাব অনুভব করছিলেন।

সদ্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংগঠনটি শিল্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন, নীতিগত সহায়তা আদায় এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও সংগঠনটি কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিধি অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিক ৬০ দিনের মধ্যে যৌথমূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে নিবন্ধন সম্পন্ন করা, স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন এবং ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন।

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার সরবরাহ করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, একটি শক্তিশালী শিল্প সংগঠন গড়ে ওঠার ফলে নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বিএমএটিএসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুধু একটি নতুন সংগঠনের সূচনা নয়; বরং দেশের বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পকে আরো সংগঠিত, আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।