ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১১:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৭৬ Time View

চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে,যার ফলে দুই দেশের মধ্যে চার বছর যাবত বজায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙ্গে গেছে। তাদের দাবি, রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এটিকে অন্যতম বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। রিয়াদ অবশ্য দাবি করেছে যে তারা হুতিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশেই ধবংশ করেছে।

অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি নিশ্চিত করেছেন যে তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালিয়েছেন। বিগত ২০২২ সালের মার্চ মাসে দুই দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হুথিদের এটিই প্রথম হামলা।

এদিকে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে একই দিন আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

অবশ্য এর আগে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছিল, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে সেখানে অবতরণে বাধা দেওয়া। ওই হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল হুতিরা। তুলনামূলক শান্ত সময়ের পর এটিই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা। এর মাধ্যমে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর মধ্যে চলা চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলো।

এদিকে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ইয়েমেন কিংবা পুরো অঞ্চল আরেক দফা সংঘাতের সামর্থ্য রাখে না। তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার মাধ্যমে ‘উত্তেজনা কমানোর সময়ের সমাপ্তি’ ঘটেছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং এর জন্য মূল্য দিতে হবে। পরবর্তী আরেকটি বার্তায় সারি দাবি করেন, সানায় পরিচালিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল রোগী ও আটকে পড়া মানুষ বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা এবং উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট অভিযান শুরু করে, যাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়।

তবে চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে আমিরাত ওই সংঘাত থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি সোমবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

আপডেট : ১১:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে,যার ফলে দুই দেশের মধ্যে চার বছর যাবত বজায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙ্গে গেছে। তাদের দাবি, রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এটিকে অন্যতম বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। রিয়াদ অবশ্য দাবি করেছে যে তারা হুতিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশেই ধবংশ করেছে।

অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি নিশ্চিত করেছেন যে তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালিয়েছেন। বিগত ২০২২ সালের মার্চ মাসে দুই দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হুথিদের এটিই প্রথম হামলা।

এদিকে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার জবাব হিসেবে একই দিন আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

অবশ্য এর আগে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছিল, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি বিমানকে সেখানে অবতরণে বাধা দেওয়া। ওই হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল হুতিরা। তুলনামূলক শান্ত সময়ের পর এটিই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা। এর মাধ্যমে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর মধ্যে চলা চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলো।

এদিকে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ইয়েমেন কিংবা পুরো অঞ্চল আরেক দফা সংঘাতের সামর্থ্য রাখে না। তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনায় গঠনমূলকভাবে অংশ নিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলভিত্তিক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার মাধ্যমে ‘উত্তেজনা কমানোর সময়ের সমাপ্তি’ ঘটেছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং এর জন্য মূল্য দিতে হবে। পরবর্তী আরেকটি বার্তায় সারি দাবি করেন, সানায় পরিচালিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল রোগী ও আটকে পড়া মানুষ বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা এবং উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট অভিযান শুরু করে, যাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়।

তবে চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে আমিরাত ওই সংঘাত থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি সোমবার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।