ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

১১মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৬:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৮৩ Time View

১১মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক

মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে উত্থান-পতন ও সংকট, বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা, বৈশ্বিক পণ্য রপ্তানিতে মন্দা এবং একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আমদানি খরচ ও পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার বা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসেই এই ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে ১৭৭ কোটি ডলারের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বা ব্যালান্স অব পেমেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে এপ্রিল সময়কালে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২২১ কোটি ডলার। তবে অর্থবছরের ১১ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-মে মেয়াদে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৯৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৭৭ কোটি ২০ লাখ বা ১.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফলশ্রুতিতে বছরের ব্যবধানে এই ঘাটতির অঙ্ক ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা শতাংশের হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই-মে সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা মোট ছয় হাজার ৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন। এর বিপরীতে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে চার হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে।

আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই অর্থবছরের ১১ মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির চূড়ান্ত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩.৯৮ বিলিয়ন ডলারে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যের এই ঘাটতি প্রায় ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দুই হাজার ৪৫ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ মেয়াদে ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি ডলার।

তবে পণ্য বাণিজ্যে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকলেও বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতির পরিমাণ কমে ৩০ কোটি ১০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। যেখানে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থাৎ ১২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের হিসাবে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

১১মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৬:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

১১মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক

মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে উত্থান-পতন ও সংকট, বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা, বৈশ্বিক পণ্য রপ্তানিতে মন্দা এবং একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আমদানি খরচ ও পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার বা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসেই এই ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে ১৭৭ কোটি ডলারের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বা ব্যালান্স অব পেমেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে এপ্রিল সময়কালে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২২১ কোটি ডলার। তবে অর্থবছরের ১১ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-মে মেয়াদে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৯৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৭৭ কোটি ২০ লাখ বা ১.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফলশ্রুতিতে বছরের ব্যবধানে এই ঘাটতির অঙ্ক ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা শতাংশের হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই-মে সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা মোট ছয় হাজার ৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন। এর বিপরীতে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে চার হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে।

আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই অর্থবছরের ১১ মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির চূড়ান্ত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩.৯৮ বিলিয়ন ডলারে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যের এই ঘাটতি প্রায় ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দুই হাজার ৪৫ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ মেয়াদে ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি ডলার।

তবে পণ্য বাণিজ্যে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকলেও বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ঘাটতির পরিমাণ কমে ৩০ কোটি ১০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। যেখানে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থাৎ ১২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের হিসাবে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।