ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

ধ্বংসস্তূপে ১৮ দিনের সন্তানকে বাঁচতে দেখে সাহস পেয়েছিলাম কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০২:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৫২ Time View
ধ্বংসস্তূপে ১৮ দিনের সন্তানকে বাঁচতে দেখে সাহস পেয়েছিলাম কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা মাত্র ১৮ দিন বয়সী সন্তানসহ এক মাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর উঠে আসছে আবেগঘন শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা। ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়ানা প্যাটিনো নামের ওই মা জানিয়েছেন মাত্র ১৮ দিন বয়সি সন্তান কীভাবে তাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছিল।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মা ডায়ানা পাতিনো জানান, কীভাবে তার কোলের শিশুপুত্রটি সেই চরম মুহূর্তে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

ডায়ানা প্যাটিনো বলেন, ‘যতক্ষণ সে বেঁচে ছিল, ততক্ষণ আমিও বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। প্রতিক্ষণে আমি তার নাকে হাত দিচ্ছিলাম এটা বুঝতে যে ও শ্বাস নিচ্ছে’। তার ছেলে হুয়ান ডেভিড তাকে এভাবে ‘জেগে থাকার এবং সচেতন থাকার শক্তি’ জুগিয়েছে তিনি বলেন।

উদ্ধার অভিযানে ১৮ দিনের সন্তানসহ সেই আবেগঘন ভিডিওটি ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এভাবেই বুধবারের সেই ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া ভেনেজুয়েলায় নবজাতক হুয়ান ডেভিড হয়ে উঠেছে আশার প্রতিক।

গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ১ মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালি ভুমিকম্প হয়। এতে দেশটির রাজধানী কারাকাস ও বন্দরনগরী লা গুয়েরাসহ বিভিন্ন শহরে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরার একটি আটতলা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ডায়ানা। ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে, তখন তিনি রান্নাঘরে থালা-বাসন ধুচ্ছিলেন। প্রথমে সাধারণ কম্পন ভেবে তিনি দ্রুত ছুটে গিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নেন। ডায়ানা সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমি বাতাসে উড়ছি। এরপর মনে হলো আমি পানি আর মাটির গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি এবং শেষমেশ একটা গর্তের মধ্যে গিয়ে পড়লাম। বাতাসে ওড়ার পরও কীভাবে যে আমি আমার বাচ্চাকে হাত থেকে ছেড়ে দিইনি, তা আমি নিজেও জানি না। আমি আসবাবপত্রের সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছিলাম।’ মাটির নিচে আটকা পড়ার পরপরই ডায়ানা চিৎকার করতে শুরু করেন, কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন-তার আওয়াজ বাইরে পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বোঝালাম যে, আমি আমার শক্তি নষ্ট করব না। যখনই বাইরে কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর বা পায়ের আওয়াজ পাব, ঠিক তখনই চিৎকার করব। এমন অন্ধকারের মাঝে ডায়ানা জানান, তার ভাই যখন তার নাম ধরে ডাকছিলেন, তখন ডায়ানা বুঝতে পারেন সাহায্য এসে গেছে।

‘আমি নিজেকে বললাম, এটাই আমার একমাত্র সুযোগ। আমি আমার গলার সব জোর খাটিয়ে চিৎকার করে উঠলাম; বললাম-‘আমি এখানে’। আমার ভাই বলল, ‘আমি তোকে খুঁজে পেয়েছি। তোকে বের না করে আমি এখান থেকে কোথাও যাচ্ছি না, কথা দিলাম।’

এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বের করে আনা হয়। কম্পনের আঘাতে ডায়ানার দুই পা-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সৌভাগ্যবশত ছোট্ট হুয়ান কেবল সামান্য চোট পেয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

ধ্বংসস্তূপে ১৮ দিনের সন্তানকে বাঁচতে দেখে সাহস পেয়েছিলাম কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়

আপডেট : ০২:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ধ্বংসস্তূপে ১৮ দিনের সন্তানকে বাঁচতে দেখে সাহস পেয়েছিলাম কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ভয়াবহ ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা মাত্র ১৮ দিন বয়সী সন্তানসহ এক মাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর উঠে আসছে আবেগঘন শ্বাসরুদ্ধকর সব ঘটনা। ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়ানা প্যাটিনো নামের ওই মা জানিয়েছেন মাত্র ১৮ দিন বয়সি সন্তান কীভাবে তাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছিল।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মা ডায়ানা পাতিনো জানান, কীভাবে তার কোলের শিশুপুত্রটি সেই চরম মুহূর্তে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

ডায়ানা প্যাটিনো বলেন, ‘যতক্ষণ সে বেঁচে ছিল, ততক্ষণ আমিও বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। প্রতিক্ষণে আমি তার নাকে হাত দিচ্ছিলাম এটা বুঝতে যে ও শ্বাস নিচ্ছে’। তার ছেলে হুয়ান ডেভিড তাকে এভাবে ‘জেগে থাকার এবং সচেতন থাকার শক্তি’ জুগিয়েছে তিনি বলেন।

উদ্ধার অভিযানে ১৮ দিনের সন্তানসহ সেই আবেগঘন ভিডিওটি ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এভাবেই বুধবারের সেই ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া ভেনেজুয়েলায় নবজাতক হুয়ান ডেভিড হয়ে উঠেছে আশার প্রতিক।

গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ১ মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালি ভুমিকম্প হয়। এতে দেশটির রাজধানী কারাকাস ও বন্দরনগরী লা গুয়েরাসহ বিভিন্ন শহরে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরার একটি আটতলা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ডায়ানা। ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে, তখন তিনি রান্নাঘরে থালা-বাসন ধুচ্ছিলেন। প্রথমে সাধারণ কম্পন ভেবে তিনি দ্রুত ছুটে গিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নেন। ডায়ানা সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল আমি বাতাসে উড়ছি। এরপর মনে হলো আমি পানি আর মাটির গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি এবং শেষমেশ একটা গর্তের মধ্যে গিয়ে পড়লাম। বাতাসে ওড়ার পরও কীভাবে যে আমি আমার বাচ্চাকে হাত থেকে ছেড়ে দিইনি, তা আমি নিজেও জানি না। আমি আসবাবপত্রের সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছিলাম।’ মাটির নিচে আটকা পড়ার পরপরই ডায়ানা চিৎকার করতে শুরু করেন, কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন-তার আওয়াজ বাইরে পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বোঝালাম যে, আমি আমার শক্তি নষ্ট করব না। যখনই বাইরে কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর বা পায়ের আওয়াজ পাব, ঠিক তখনই চিৎকার করব। এমন অন্ধকারের মাঝে ডায়ানা জানান, তার ভাই যখন তার নাম ধরে ডাকছিলেন, তখন ডায়ানা বুঝতে পারেন সাহায্য এসে গেছে।

‘আমি নিজেকে বললাম, এটাই আমার একমাত্র সুযোগ। আমি আমার গলার সব জোর খাটিয়ে চিৎকার করে উঠলাম; বললাম-‘আমি এখানে’। আমার ভাই বলল, ‘আমি তোকে খুঁজে পেয়েছি। তোকে বের না করে আমি এখান থেকে কোথাও যাচ্ছি না, কথা দিলাম।’

এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বের করে আনা হয়। কম্পনের আঘাতে ডায়ানার দুই পা-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সৌভাগ্যবশত ছোট্ট হুয়ান কেবল সামান্য চোট পেয়েছে।