ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

ড.খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১১:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ১২০ Time View

ড.খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার হওয়া ভোটাভুটিতে জয়ী হন তিনি।

এ নির্বাচনে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।

ড. খলিলুর রহমান মোট প্রদত্ত ১৯০টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

প্রাথমিকভাবে চার বছর আগে সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত ছিল।

পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মুসলিম ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাও তখন আলোচনায় আসে।

সর্বশেষ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি একটি করে ভোট প্রদান করে এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থী সভাপতি নির্বাচিত হন।

ড. খলিলুর রহমানের পরিচিতি

ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সেবায় যোগ দেন।

একই বছরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এছাড়া তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতির সহকারী ছিলেন।

১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি)-এ জেনেভায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক ও বিষয়বস্তু অবদানকারী হিসেবে ভূমিকা রাখেন।

ড. রহমান ঢাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এরপর তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ প্রতিনিধি এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

ড.খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন

আপডেট : ১১:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ড.খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার হওয়া ভোটাভুটিতে জয়ী হন তিনি।

এ নির্বাচনে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।

ড. খলিলুর রহমান মোট প্রদত্ত ১৯০টি ভোটের মধ্যে পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

প্রাথমিকভাবে চার বছর আগে সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত ছিল।

পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা ঘোষণা ও প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে মুসলিম ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাও তখন আলোচনায় আসে।

সর্বশেষ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নতুন করে প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি একটি করে ভোট প্রদান করে এবং গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থী সভাপতি নির্বাচিত হন।

ড. খলিলুর রহমানের পরিচিতি

ড. খলিলুর রহমান ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সেবায় যোগ দেন।

একই বছরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এছাড়া তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতির সহকারী ছিলেন।

১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি)-এ জেনেভায় বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক ও বিষয়বস্তু অবদানকারী হিসেবে ভূমিকা রাখেন।

ড. রহমান ঢাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এরপর তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ প্রতিনিধি এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।