ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে আইসিইউ সুবিধা গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৪:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৬৮ Time View

শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে আইসিইউ সুবিধা গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্রবধু এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান দেশের শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে প্রতিটি জেলা ও সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও জীবনরক্ষাকারী নিবিড় পরিচর্যা সুবিধার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত। আইসিইউসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের বল্রুমে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, দেশে নিবিড় পরিচর্যা বা আইসিইউ সেবার সংকট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি নিবিড় পরিচর্যা শয্যা এবং মাত্র ৯টি সাধারণ হাসপাতালের শয্যা। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮ জেলায় কোনো ধরনের আইসিইউ নেই। এছাড়া দেশের মোট নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক।

গ্রামীণ এলাকার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নবজাতক, গর্ভবতী নারী, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অকালমৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।

নিবিড় পরিচর্যা সেবার সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে শুধু শয্যারই ঘাটতি নেই; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (যেমন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ), দক্ষ নার্স এবং প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত যন্ত্রপাতিরও তীব্র সংকট রয়েছে।

সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যথাযথ পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য দূরত্ব ও যাতায়াত বড় বাধা। প্রত্যন্ত গ্রামে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সুবিধা দেওয়া সম্ভব না হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত রোগীদের জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলেও আমাদের চিকিৎসক ভাই-বোনেরা দিনরাত কাজ করে রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এবং অসংখ্য পরিবারের আশা বাঁচিয়ে রাখছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফাওয়ারা তাসমিনপ্রমুখ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে আইসিইউ সুবিধা গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেট : ০৪:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে আইসিইউ সুবিধা গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্রবধু এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান দেশের শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে প্রতিটি জেলা ও সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও জীবনরক্ষাকারী নিবিড় পরিচর্যা সুবিধার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত। আইসিইউসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণ করতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের বল্রুমে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, দেশে নিবিড় পরিচর্যা বা আইসিইউ সেবার সংকট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

বর্তমানে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি নিবিড় পরিচর্যা শয্যা এবং মাত্র ৯টি সাধারণ হাসপাতালের শয্যা। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮ জেলায় কোনো ধরনের আইসিইউ নেই। এছাড়া দেশের মোট নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক।

গ্রামীণ এলাকার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নবজাতক, গর্ভবতী নারী, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অকালমৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।

নিবিড় পরিচর্যা সেবার সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে শুধু শয্যারই ঘাটতি নেই; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (যেমন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ), দক্ষ নার্স এবং প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত যন্ত্রপাতিরও তীব্র সংকট রয়েছে।

সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যথাযথ পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য দূরত্ব ও যাতায়াত বড় বাধা। প্রত্যন্ত গ্রামে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ সুবিধা দেওয়া সম্ভব না হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত রোগীদের জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলেও আমাদের চিকিৎসক ভাই-বোনেরা দিনরাত কাজ করে রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এবং অসংখ্য পরিবারের আশা বাঁচিয়ে রাখছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফাওয়ারা তাসমিনপ্রমুখ।