ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অটুট রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, এতেই বড় হোচট খেলেন ট্রাম্প

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১২:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৭৯ Time View

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অটুট রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, এতেই বড় হোচট খেলেন ট্রাম্প

আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫০ বছরের পুরনো সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকল। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই আদেশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় হোঁচট হিসাবে দেখা হচ্ছে।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার আদালত ৬-৩ ভোটের এই রায়ে ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক শিশুদের নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের প্রচলিত অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

দেড়শত বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতে পরিবর্তন আনার এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ ছিল। তবে শুরু থেকেই এই আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, বর্তমান ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তন প্রয়োজন।

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাদের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত একটি অধিকার, যা শুধু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় আইনি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি নীতি, যেখানে দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই নীতির অন্যতম বড় উদাহরণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রেই নয়, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। রক্ষণশীলরা মনে করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই অধিকার সীমিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আসতো।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখো মানুষের নাগরিকত্বের বর্তমান কাঠামো বহাল থাকছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অটুট রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, এতেই বড় হোচট খেলেন ট্রাম্প

আপডেট : ১২:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অটুট রাখলেন সুপ্রিম কোর্ট, এতেই বড় হোচট খেলেন ট্রাম্প

আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫০ বছরের পুরনো সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকল। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই আদেশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় হোঁচট হিসাবে দেখা হচ্ছে।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার আদালত ৬-৩ ভোটের এই রায়ে ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক শিশুদের নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের প্রচলিত অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

দেড়শত বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতে পরিবর্তন আনার এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ ছিল। তবে শুরু থেকেই এই আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, বর্তমান ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তন প্রয়োজন।

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাদের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত একটি অধিকার, যা শুধু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় আইনি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি নীতি, যেখানে দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই নীতির অন্যতম বড় উদাহরণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রেই নয়, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। রক্ষণশীলরা মনে করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই অধিকার সীমিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আসতো।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লাখো মানুষের নাগরিকত্বের বর্তমান কাঠামো বহাল থাকছে।