ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

কানাডা প্রত্যাশীদের দরজা খুলছে, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নভেম্বরে

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১১:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৮ Time View

কানাডা প্রত্যাশীদের দরজা খুলছে, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নভেম্বরে

কানাডা সরকার ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের পরবর্তী তিন বছরের নতুন ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান’ (Immigration Levels Plan) আগামী নভেম্বরের শুরুতে দেশটির পার্লামেন্টে উপাস্থাপন করতে যাচ্ছে। কানাডার আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ০১ নভেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের ০১ নভেম্বর রোববার হওয়ায়, ধারণা করা হচ্ছে নভেম্বরের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। কানাডায় বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি… কারিগরি পেশা, পরিবহন এবং শিক্ষকতা খাতের পেশাদারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া কুইবেকের বাইরে ফরাসি ভাষার (Francophone) দক্ষদের কোটাও দিনদিন বাড়ানো হচ্ছে।  

 কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরার পর এবার নিয়ন্ত্রিতভাবে আবার জনসংখ্যা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এখন প্রশ্ন হলো—কখন থেকে কানাডার জনসংখ্যা আবার ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বাড়ানো শুরু করা হবে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসার পর এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় এসেছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অভিবাসন সংখ্যা বা নতুন লক্ষ্য ঘোষণা করেননি।

কার্নির এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন কানাডায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কানাডার সর্বশেষ স্ট্যাটিস্টিকস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৫ জন, অর্থাৎ ০.৫ শতাংশ। এটি ১৯৪৪–৪৫ সালের পর জুলাই-থেকে-জুলাই হিসাবে সবচেয়ে কম বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

একই সময়ে কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটিতে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬.৭ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৭.২ শতাংশের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এই হার কমেছে।

বর্তমান ২০২৬–২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার অনুপাত মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

তবে নতুন পরিকল্পনায় এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

কানাডার আইন অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারকে প্রতি বছর পরবর্তী কয়েক বছরের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭–২০২৯ সালের ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্লান’ উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এই পরিকল্পনাতেই স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্ট হবে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সিডি হাও ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন টার্গেট কাউন্সিল আগামী কয়েক বছরেও অভিবাসন সংখ্যা আরও কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকার আগের ধারাবাহিক কমানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি নিয়ন্ত্রিত পথ বিবেচনা করছে।

এদিকে ২০২৫–২০২৬ সময়ে কানাডায় নতুন স্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা কমে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২২৪ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিও ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে আগামী নভেম্বরের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা কানাডার অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

–টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

কানাডা প্রত্যাশীদের দরজা খুলছে, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নভেম্বরে

আপডেট : ১১:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কানাডা প্রত্যাশীদের দরজা খুলছে, নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা নভেম্বরে

কানাডা সরকার ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের পরবর্তী তিন বছরের নতুন ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান’ (Immigration Levels Plan) আগামী নভেম্বরের শুরুতে দেশটির পার্লামেন্টে উপাস্থাপন করতে যাচ্ছে। কানাডার আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ০১ নভেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বছরের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের ০১ নভেম্বর রোববার হওয়ায়, ধারণা করা হচ্ছে নভেম্বরের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। কানাডায় বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি… কারিগরি পেশা, পরিবহন এবং শিক্ষকতা খাতের পেশাদারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া কুইবেকের বাইরে ফরাসি ভাষার (Francophone) দক্ষদের কোটাও দিনদিন বাড়ানো হচ্ছে।  

 কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরার পর এবার নিয়ন্ত্রিতভাবে আবার জনসংখ্যা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এখন প্রশ্ন হলো—কখন থেকে কানাডার জনসংখ্যা আবার ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বাড়ানো শুরু করা হবে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসার পর এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় এসেছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অভিবাসন সংখ্যা বা নতুন লক্ষ্য ঘোষণা করেননি।

কার্নির এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন কানাডায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কানাডার সর্বশেষ স্ট্যাটিস্টিকস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৫ জন, অর্থাৎ ০.৫ শতাংশ। এটি ১৯৪৪–৪৫ সালের পর জুলাই-থেকে-জুলাই হিসাবে সবচেয়ে কম বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

একই সময়ে কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটিতে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬.৭ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৭.২ শতাংশের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এই হার কমেছে।

বর্তমান ২০২৬–২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার অনুপাত মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

তবে নতুন পরিকল্পনায় এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

কানাডার আইন অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারকে প্রতি বছর পরবর্তী কয়েক বছরের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭–২০২৯ সালের ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্লান’ উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এই পরিকল্পনাতেই স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্ট হবে।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সিডি হাও ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন টার্গেট কাউন্সিল আগামী কয়েক বছরেও অভিবাসন সংখ্যা আরও কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকার আগের ধারাবাহিক কমানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি নিয়ন্ত্রিত পথ বিবেচনা করছে।

এদিকে ২০২৫–২০২৬ সময়ে কানাডায় নতুন স্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা কমে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২২৪ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিও ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে আগামী নভেম্বরের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা কানাডার অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

–টিভি টুডে