
দাসত্বের চুক্তি করে দেশ ধ্বংস করে গেছেন ড. ইউনূস: শওকত আজিজ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি শওকত আজিজ রাসেল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি অসম চুক্তি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু চুক্তির কারণে দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের স্বার্থে যে কোনো পদক্ষেপে বিদেশিদের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে। ড. ইউনুস রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদেশিদের সন্তস্ট করতে গিয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছেন। তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো তৈরি থাকার পরও নতুন চুক্তির গ্যাঁড়াকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে দেশের।
চ্যানেল আইয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’য় দেশের সমসাময়িক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনার সময় এসব মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী নেতা শওকত আজিজ রাসেল। আলোচনার একপর্যায়ে ড. ইউনূস সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, তার সময়ে দেশ ‘পুরোপুরি শেষ ও ধ্বংস’ হয়ে গেছে।
টকশো আলোচনায় ড. ইউনূসের কর মওকুফ সুবিধার সমালোচনা করে এই শীর্ষ ব্যবসায়ী বলেন, চ্যারিটি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ড. ইউনূস দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করেছেন।
শওকত আজিজ রাসেলের মতে, আগে রাষ্ট্রের প্রাপ্য ট্যাক্স পরিশোধ করা উচিত, এরপর উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে চ্যারিটি বা মসজিদ নির্মাণের মতো কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। কিন্তু ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নন-প্রফিট’ হিসেবে দেখিয়ে সব ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন এবং আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করে পার পেয়ে গেছেন।
আলোচনায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ড. ইউনূস যে প্রক্রিয়ায় কর সুবিধা পেয়েছেন, একই সুযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদের দেওয়া হলে তারাও নিজেদের কারখানাকে নন-প্রফিট ঘোষণা করে কর অব্যাহতি নিতে পারতেন। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সার্বভৌমত্ব বিক্রি ও দাসত্বের চুক্তি করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শওকত আজিজ রাসেল। তার অভিযোগ, দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করে আমেরিকার সঙ্গে এমন একটি ‘অসম’ চুক্তি করা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
ড. ইউনূস বিদায় নেওয়ার আগে অফিস খুলে তড়িঘড়ি করে এমন চুক্তি করার মধ্যেই ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ লুকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই চুক্তির ফলে বিদেশিদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
শওকত আজিজ রাসেল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বিদেশিদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ কোথা থেকে তেল বা ক্যাবল কিনবে, সে সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব হবে না- এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার মতে, এটি ‘দাসত্বের চুক্তি’ এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গও টানেন বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট এবং আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে করা ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে মূল প্ল্যান্টের বাইরে অবকাঠামো নির্মাণেই ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থাও সরকার আগে থেকেই তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
টকশো আলোচনায় রাসেল বলেন, যেহেতু অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে, তাই ভবিষ্যতে একই আকারের প্রকল্প তুলনামূলক অর্ধেকেরও কম খরচে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে একই ধরনের প্রকল্প করা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। এমন সুযোগ না থাকলে সেটিকে বড় ধরনের জাতীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন এই ব্যবসায়ী।
সবশেষে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, তিনি ভালো বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হতে পারেন।
তবে তার কড়া অভিযোগ, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও তিনি জাতির সঙ্গে ‘বেইমানি’ করেছেন। বিদেশিদের সন্তুষ্ট করতে করা হয়েছে এসব কিছুই- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে দেশকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়া হয়েছে।
–টিভি টুডে
TV Today HD Desk: 





















