ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম অর্জন মূল্যায়ন

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০ Time View

সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম অর্জন মূল্যায়ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচিত শ্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ যা দেশের জাতীয় স্বার্থ সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণকে  সব কিছুর আগে স্থান দেওয়ার ওপর জোর দেয়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে সরকারের প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে ১৬ আগস্ট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ১ বছর ৭ মাসের টানা রানৈতিক অস্থিরতা, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি।

সরকারের পক্ষ থেকে ছয় মাসে নানা অগ্রগতির দাবি করা হলেও সম্প্রতি অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎসংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ইশতেহারে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের আওতায় পাঁচটি অধ্যায়ে ৫১টি দফা ও ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে দলটি। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে সর্বাধিক গুরুত্বে রাখা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের শপথ গ্রহণের পর থেকেই ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে।

ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে সরকার এখন পুরো মেয়াদের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার পথে। ছয় মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাস্তবায়িত উদ্যোগ, নীতিগত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতিও জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। সেখানে এসব বিষয় তুলে ধরা হতে পারে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পাঁচ মাসে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

মাহদী আমিন দাবি করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রথম ১৫০ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং মাত্র ১৫০ দিনেই সরকার জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

সংসদে অর্থনীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার রিজার্ভ পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ ফেরাতে কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে অতীতে সূচক ইতিবাচক ধারায় ছিল, যা গত ১৬ বছরে ধূলিসাৎ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জানিয়েছিলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা হবে।

ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই নারীকেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এছাড়া বড় আকারে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ফুয়েল পাস, এলপিজি কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড আলোচনায় এসেছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১০০ দিনেই ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে।

কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রেও আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় পাইলটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কথা জানানো হয়।

দলের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী রেলপথ মন্ত্রণালয় ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছরের পৃথক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। অচল ডেমু সচল, নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু এবং বুলেট ট্রেন সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে ইউএনজিএ প্রেসিডেন্সি অর্জনের কথা বলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং প্রকাশিত ই-বুক অনুযায়ী, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় ২০০টি উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার ফলে জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকার ১৫০ দিনে সব মন্ত্রণালয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা বললেও বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। প্রথম ১৫০ দিন নিয়েই বিশ্লেষণ ছিল ভগ্ন অর্থনীতি ও উচ্চ প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ। ওই সময়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি।

এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থতা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অক্ষমতার কারণে সরকার দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।

সরকারের ছয় মাস পূর্তির পর নজর এখন দৃশ্যমান বাস্তবায়নে। ইদানিং মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর গুঞ্জন চলছে। প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের তোড়জোড় চলছে এবং একাধিক মুখ বাদ পড়তে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছে।

সরকারের ভাষ্যে পর্যবেক্ষণ শেষ, এখন অ্যাকশন শুরু। জনগণের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে ছয় মাসের সরকারের পরবর্তী পথচলা কতটা মসৃণ হবে।

বর্তমান সরকারের ছয় মাসের অঙ্গীকারের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবগুলোই পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি নিয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোথাও হয়তো ১০০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়নি, তবে ৯০ কিংবা ৯৫ শতাংশ হয়েছে। সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে অঙ্গীকারগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তার একটি লিখিত বিবরণ দেওয়া হবে।

সরকারের প্রথম ছয় মাসকে প্রস্তুতি ও প্রশাসন গুছিয়ে নেওয়ার সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে।’

পরবর্তী ছয় মাসে সরকারের কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে বলে জানান তিনি।

রিজভী বলেন, ‘পরবর্তী ছয় মাস আরও জোরালোভাবে এটা অ্যাক্সিলারেট হবে এবং কর্মসূচিগুলো সফল বাস্তবায়ন হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা শুধু ছয় মাসের অগ্রগতি যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, একটি সরকারের, বিশেষ করে একটি নির্বাচিত সরকারের, পুরো মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে মূল্যায়ন খুব জরুরি। এটি শুধু বাংলাদেশেই হয় এমন নয়, সকল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একই রকম বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র রয়েছে। এই মূল্যায়নের প্রধান কারণ হলো, সরকারকে তার মূল কাজ, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের প্রয়োজনের দিকে মনোযোগী রাখা।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, অঙ্গীকার অনুযায়ী কী অর্জন হয়েছে, কাজের মাধ্যমে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াগত মূল্যায়নের মাধ্যমে সরকারকে জনস্বার্থে কাজের গতি বাড়ানো এবং মূল অঙ্গীকারের ধারায় কর্মশীল রাখা যায়। যদিও অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, কোনও সরকারই ছয় মাস, এক বছর, দুই বছর বা পাঁচ বছরের মূল্যায়নকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

ড. হকের মতে, ৫ আগস্টের পরে এটি প্রথম নির্বাচিত সরকার। তাই এই সরকারের কাছে প্রত্যাশার জায়গাটি আগের সরকারগুলোর তুলনায় ভিন্ন। ৫ আগস্টের পরের প্রথম নির্বাচিত সরকার হিসেবে বিএনপি তার অঙ্গীকারের জায়গাগুলোতে শতভাগ সতর্ক থাকবে বলে তিনি মনে করেন। সমালোচনার বিষয়গুলো সাদরে গ্রহণ করে সংশোধন ও নতুন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা ও জনস্বার্থ পূরণ করতে হবে।

ড. হক বলেন, জনস্বার্থে সরকারকে সঠিক ধারায় রাখা এবং জনগণ কী বলছে, কী ভাবছে, সে বিষয়ে সরকারকে অবগত করার জন্যই মূল্যায়ন প্রয়োজন। সরকার যত বেশি এই মূল্যায়ন গ্রহণ করবে ও বোঝার চেষ্টা করবে, তত বেশি জনগণের পালস বা উপলব্ধি বুঝতে পারবে।

‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও সরকারের কার্যক্রমে নজরদারি ও মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ, ক্ষমতার কতগুলো বৈশিষ্ট্য থাকে। ক্ষমতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার হয় এবং সরকারের হাতে অগাধ ক্ষমতা, সরকারের বৈধভাবে বল প্রয়োগের ক্ষমতা আছে। সরকার অনেক কিছু করতে পারে তাই নজরদারি দরকার।’

মজুমদার বলেন, ‘নজরদারি অনেক দিক থেকে দরকার, যেমন নজরদারি করার জন্য সংসদ একটা কাঠামো, তারপরে বিচার একটা কাঠামো, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আছে। তারা নজরদারি করে সরকার যাতে কোনও অন্যায় না করে, কোনোরকম ক্ষমতার ব্যবহার না করে, মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে এবং একইসঙ্গে এই গণমাধ্যমও নজরদারির জন্য বড় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ যে তারা সরকার যে যাতে বাড়াবাড়ি না করে মানুষ অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে, মানুষের প্রতি কোনোরকম অন্যায় আচরণ না করে। এ জন্য যে নজরদারি দরকার, এটা সেই নজরদারির অংশ।’

সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, মূল্যায়ন এক বছরভিত্তিক জরুরি, এমনটা তিনি মনে করেন না। এমনকি প্রথম দিন থেকেই মূল্যায়ন হতে পারে। মূল্যায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে মানুষ পরে মূল্যায়ন করে, কারণ সবকিছুরই একটি ‘হানিমুন পিরিয়ড’ থাকে। ছয় মাস হয়তো খাপ খাওয়াতে ও বিষয়গুলো বুঝতে সময় লাগে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, প্রথম দিন থেকেই সরকারের মূল্যায়ন করা উচিত।

কামাল বলেন, সরকার যখনই ভুল করবে, তখনই প্রতিবাদ করা উচিত। ভালো কিছু করলে তখনই প্রশংসা করা উচিত। এটি যেকোনও সময় করা যায়। তবে এখন ১৮০ দিনের একটি লক্ষ্য ধরে সরকার কিছু বিষয়ে অর্জন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী একটি লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিলেন বলেই হয়তো ছয় মাস পর সবাই বিচার-বিশ্লেষণ করছে, এই সময়ে সরকার যতটা এগোতে চেয়েছিল ততটা এগোতে পেরেছে কিনা। তবে তার মতে এ ধরনের সময়সীমার খুব একটা অর্থ নেই। প্রতিদিনই সরকারের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাতে হবে এবং প্রতিদিনই এক ধরনের জবাবদিহি থাকতে হবে।

-টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম অর্জন মূল্যায়ন

আপডেট : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম অর্জন মূল্যায়ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচিত শ্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ যা দেশের জাতীয় স্বার্থ সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণকে  সব কিছুর আগে স্থান দেওয়ার ওপর জোর দেয়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে সরকারের প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে ১৬ আগস্ট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ১ বছর ৭ মাসের টানা রানৈতিক অস্থিরতা, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি।

সরকারের পক্ষ থেকে ছয় মাসে নানা অগ্রগতির দাবি করা হলেও সম্প্রতি অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎসংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ইশতেহারে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের আওতায় পাঁচটি অধ্যায়ে ৫১টি দফা ও ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে দলটি। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে সর্বাধিক গুরুত্বে রাখা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের শপথ গ্রহণের পর থেকেই ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে।

ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে সরকার এখন পুরো মেয়াদের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার পথে। ছয় মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাস্তবায়িত উদ্যোগ, নীতিগত সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতিও জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। সেখানে এসব বিষয় তুলে ধরা হতে পারে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পাঁচ মাসে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

মাহদী আমিন দাবি করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রথম ১৫০ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং মাত্র ১৫০ দিনেই সরকার জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

সংসদে অর্থনীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার রিজার্ভ পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ ফেরাতে কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে অতীতে সূচক ইতিবাচক ধারায় ছিল, যা গত ১৬ বছরে ধূলিসাৎ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জানিয়েছিলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা হবে।

ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই নারীকেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এছাড়া বড় আকারে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ফুয়েল পাস, এলপিজি কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড আলোচনায় এসেছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ১০০ দিনেই ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে।

কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রেও আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় পাইলটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কথা জানানো হয়।

দলের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী রেলপথ মন্ত্রণালয় ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছরের পৃথক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। অচল ডেমু সচল, নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু এবং বুলেট ট্রেন সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে ইউএনজিএ প্রেসিডেন্সি অর্জনের কথা বলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং প্রকাশিত ই-বুক অনুযায়ী, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় ২০০টি উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার ফলে জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকার ১৫০ দিনে সব মন্ত্রণালয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা বললেও বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ কমানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। প্রথম ১৫০ দিন নিয়েই বিশ্লেষণ ছিল ভগ্ন অর্থনীতি ও উচ্চ প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ। ওই সময়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি।

এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থতা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অক্ষমতার কারণে সরকার দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে।

সরকারের ছয় মাস পূর্তির পর নজর এখন দৃশ্যমান বাস্তবায়নে। ইদানিং মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর গুঞ্জন চলছে। প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের তোড়জোড় চলছে এবং একাধিক মুখ বাদ পড়তে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছে।

সরকারের ভাষ্যে পর্যবেক্ষণ শেষ, এখন অ্যাকশন শুরু। জনগণের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে ছয় মাসের সরকারের পরবর্তী পথচলা কতটা মসৃণ হবে।

বর্তমান সরকারের ছয় মাসের অঙ্গীকারের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবগুলোই পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি নিয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোথাও হয়তো ১০০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়নি, তবে ৯০ কিংবা ৯৫ শতাংশ হয়েছে। সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে অঙ্গীকারগুলোর কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তার একটি লিখিত বিবরণ দেওয়া হবে।

সরকারের প্রথম ছয় মাসকে প্রস্তুতি ও প্রশাসন গুছিয়ে নেওয়ার সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে।’

পরবর্তী ছয় মাসে সরকারের কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে বলে জানান তিনি।

রিজভী বলেন, ‘পরবর্তী ছয় মাস আরও জোরালোভাবে এটা অ্যাক্সিলারেট হবে এবং কর্মসূচিগুলো সফল বাস্তবায়ন হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা শুধু ছয় মাসের অগ্রগতি যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, একটি সরকারের, বিশেষ করে একটি নির্বাচিত সরকারের, পুরো মেয়াদের বিভিন্ন সময়ে মূল্যায়ন খুব জরুরি। এটি শুধু বাংলাদেশেই হয় এমন নয়, সকল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একই রকম বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র রয়েছে। এই মূল্যায়নের প্রধান কারণ হলো, সরকারকে তার মূল কাজ, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের প্রয়োজনের দিকে মনোযোগী রাখা।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, অঙ্গীকার অনুযায়ী কী অর্জন হয়েছে, কাজের মাধ্যমে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াগত মূল্যায়নের মাধ্যমে সরকারকে জনস্বার্থে কাজের গতি বাড়ানো এবং মূল অঙ্গীকারের ধারায় কর্মশীল রাখা যায়। যদিও অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, কোনও সরকারই ছয় মাস, এক বছর, দুই বছর বা পাঁচ বছরের মূল্যায়নকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

ড. হকের মতে, ৫ আগস্টের পরে এটি প্রথম নির্বাচিত সরকার। তাই এই সরকারের কাছে প্রত্যাশার জায়গাটি আগের সরকারগুলোর তুলনায় ভিন্ন। ৫ আগস্টের পরের প্রথম নির্বাচিত সরকার হিসেবে বিএনপি তার অঙ্গীকারের জায়গাগুলোতে শতভাগ সতর্ক থাকবে বলে তিনি মনে করেন। সমালোচনার বিষয়গুলো সাদরে গ্রহণ করে সংশোধন ও নতুন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা ও জনস্বার্থ পূরণ করতে হবে।

ড. হক বলেন, জনস্বার্থে সরকারকে সঠিক ধারায় রাখা এবং জনগণ কী বলছে, কী ভাবছে, সে বিষয়ে সরকারকে অবগত করার জন্যই মূল্যায়ন প্রয়োজন। সরকার যত বেশি এই মূল্যায়ন গ্রহণ করবে ও বোঝার চেষ্টা করবে, তত বেশি জনগণের পালস বা উপলব্ধি বুঝতে পারবে।

‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও সরকারের কার্যক্রমে নজরদারি ও মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ, ক্ষমতার কতগুলো বৈশিষ্ট্য থাকে। ক্ষমতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার হয় এবং সরকারের হাতে অগাধ ক্ষমতা, সরকারের বৈধভাবে বল প্রয়োগের ক্ষমতা আছে। সরকার অনেক কিছু করতে পারে তাই নজরদারি দরকার।’

মজুমদার বলেন, ‘নজরদারি অনেক দিক থেকে দরকার, যেমন নজরদারি করার জন্য সংসদ একটা কাঠামো, তারপরে বিচার একটা কাঠামো, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আছে। তারা নজরদারি করে সরকার যাতে কোনও অন্যায় না করে, কোনোরকম ক্ষমতার ব্যবহার না করে, মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে এবং একইসঙ্গে এই গণমাধ্যমও নজরদারির জন্য বড় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ যে তারা সরকার যে যাতে বাড়াবাড়ি না করে মানুষ অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে, মানুষের প্রতি কোনোরকম অন্যায় আচরণ না করে। এ জন্য যে নজরদারি দরকার, এটা সেই নজরদারির অংশ।’

সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, মূল্যায়ন এক বছরভিত্তিক জরুরি, এমনটা তিনি মনে করেন না। এমনকি প্রথম দিন থেকেই মূল্যায়ন হতে পারে। মূল্যায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে মানুষ পরে মূল্যায়ন করে, কারণ সবকিছুরই একটি ‘হানিমুন পিরিয়ড’ থাকে। ছয় মাস হয়তো খাপ খাওয়াতে ও বিষয়গুলো বুঝতে সময় লাগে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, প্রথম দিন থেকেই সরকারের মূল্যায়ন করা উচিত।

কামাল বলেন, সরকার যখনই ভুল করবে, তখনই প্রতিবাদ করা উচিত। ভালো কিছু করলে তখনই প্রশংসা করা উচিত। এটি যেকোনও সময় করা যায়। তবে এখন ১৮০ দিনের একটি লক্ষ্য ধরে সরকার কিছু বিষয়ে অর্জন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী একটি লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিলেন বলেই হয়তো ছয় মাস পর সবাই বিচার-বিশ্লেষণ করছে, এই সময়ে সরকার যতটা এগোতে চেয়েছিল ততটা এগোতে পেরেছে কিনা। তবে তার মতে এ ধরনের সময়সীমার খুব একটা অর্থ নেই। প্রতিদিনই সরকারের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাতে হবে এবং প্রতিদিনই এক ধরনের জবাবদিহি থাকতে হবে।

-টিভি টুডে