ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

তুরুস্ক-সৌদি ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ন্যাটোর মতোই: তুর্কিমন্ত্রী

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৫:৫০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৬ Time View

তুরুস্ক-সৌদি ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ন্যাটোর মতোই: তুর্কিমন্ত্রী

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে কারিগরিভাবে একই ধরনের বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান, এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

হাকান ফিদান রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই জোটের পরিধি আরও  বাড়াতে চান। মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এ জোটে যোগ দিতে পারে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিতে সই করে। আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তিনটি সুন্নি মুসলিম দেশ এই প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তুলেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে সবাক্ষরকারি তিন দেশ বলেছে, যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, নতুন এই জোট ইরান বা অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। বরং তিন দেশের নিরাপত্তার প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থনের সাধারণ অঙ্গীকার হিসেবে এটি করা হয়েছে।

ফিদান আরও  বলেন, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে কী ধরনের, কতটা এবং কোন পদ্ধতিতে সহযোগিতা দেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবে মিত্র দেশগুলো। তবে কোনো দেশকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, যতক্ষণ না কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হয়।

ন্যাটোর পর তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে। ফিদান বলেন, নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি বিদ্যমান কোনো জোটকে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি।

তিনি বলেন, ন্যাটো একটি বিশাল সামরিক জোট, যেখানে ৩২টি দেশ রয়েছে। সেখানে তিন দেশ নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে খুব সতর্কতার সঙ্গে কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফিদান জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে গত দুই বছর আট মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। ন্যাটোর মতো একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে জোটের কার্যক্রমের বিস্তারিত কাঠামো প্রথম কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।

ফিদান বলেন, এরদোয়ানের লক্ষ্য এই জোটকে তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বড় করা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে একই কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে মিসরও এতে যোগ দিতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি জোট গঠন করেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধসহ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় গঠিত এই জোটকে আর-ফোর নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তুরস্ক জানিয়েছে, বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

ফিদান আরও বলেন, লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় গঠিত আন্তর্জাতিক জোটে তুরস্কেরও অংশ নেওয়া উচিত। কারণ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তুরস্কের স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

সূত্র : রয়টার্স

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

তুরুস্ক-সৌদি ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ন্যাটোর মতোই: তুর্কিমন্ত্রী

আপডেট : ০৫:৫০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

তুরুস্ক-সৌদি ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ন্যাটোর মতোই: তুর্কিমন্ত্রী

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে কারিগরিভাবে একই ধরনের বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান, এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

হাকান ফিদান রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই জোটের পরিধি আরও  বাড়াতে চান। মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এ জোটে যোগ দিতে পারে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র মক্কায় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিতে সই করে। আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র তিনটি সুন্নি মুসলিম দেশ এই প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তুলেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে সবাক্ষরকারি তিন দেশ বলেছে, যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, নতুন এই জোট ইরান বা অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। বরং তিন দেশের নিরাপত্তার প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থনের সাধারণ অঙ্গীকার হিসেবে এটি করা হয়েছে।

ফিদান আরও  বলেন, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে কী ধরনের, কতটা এবং কোন পদ্ধতিতে সহযোগিতা দেওয়া হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবে মিত্র দেশগুলো। তবে কোনো দেশকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, যতক্ষণ না কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হয়।

ন্যাটোর পর তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে। ফিদান বলেন, নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি বিদ্যমান কোনো জোটকে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি।

তিনি বলেন, ন্যাটো একটি বিশাল সামরিক জোট, যেখানে ৩২টি দেশ রয়েছে। সেখানে তিন দেশ নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে খুব সতর্কতার সঙ্গে কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফিদান জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে গত দুই বছর আট মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। ন্যাটোর মতো একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে জোটের কার্যক্রমের বিস্তারিত কাঠামো প্রথম কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।

ফিদান বলেন, এরদোয়ানের লক্ষ্য এই জোটকে তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বড় করা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে একই কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলে মিসরও এতে যোগ দিতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি জোট গঠন করেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধসহ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় গঠিত এই জোটকে আর-ফোর নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তুরস্ক জানিয়েছে, বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

ফিদান আরও বলেন, লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় গঠিত আন্তর্জাতিক জোটে তুরস্কেরও অংশ নেওয়া উচিত। কারণ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তুরস্কের স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

সূত্র : রয়টার্স