ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

একসঙ্গে জীবিত ১০ প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০১:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭২ Time View

একসঙ্গে জীবিত ১০ প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

শুধু যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে নয় গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে একসাথে জীবিত বেশি প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাজ্য। এই প্রথম সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে একসাথে ১০ জন প্রধানমন্ত্রী জীবিত থাকার এক অন্যন্য নজিরবিহীন রেকর্ড তৈরি হয়েছে দেশটিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা ও ঘন-ঘন সরকার পরিবর্তন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের কম বয়সের কারণে এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই লেবার পার্টির অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশটির জীবিত প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা ১০ জনে পৌছায়।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি হয়েছে। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে বার্নহ্যামের সরকার গঠনের ফলে বর্তমানে দেশটিতে বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে মোট ১০ জন প্রধানমন্ত্রী জীবিত রয়েছেন। আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে একই সময়ে এতজন বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবিত থাকার ঘটনা এবারই প্রথম।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পাশাপাশি জীবিত ৯ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা জন মেজর, ৭৫ বছরের গর্ডন ব্রাউন, ৭৩ বছরের টনি ব্লেয়ার, ৬৯ বছরের থেরেসা মে, ৬৩ বছরের কিয়ার স্টারমার, ৬২ বছরের বরিস জনসন, ৫৯ বছরের ডেভিড ক্যামেরন, ৫০ বছরের লিজ ট্রাস এবং ৪৬ বছরের ঋষি সুনাক। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর জীবিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা আটে পৌঁছেছিল, যা কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বিদায়ের পর ৯-এ দাঁড়ায় এবং বার্নহ্যামকে নিয়ে তা ১০-এ উন্নীত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে এতজন সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কেবল একটি পরিসংখ্যানগত রেকর্ড নয় বরং এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর এক দশকের মধ্যে সাতজন নেতা ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব সামলেছেন। ঘন ঘন এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের জন্য আলাদা সাংবিধানিক পদ বা আজীবন সরকারি বেতনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে জনজীবনে তাঁদের বিশেষ ভূমিকার কারণে রাষ্ট্র কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ১৯৯১ সাল থেকে চালু হওয়া পাবলিক ডিউটি কস্টস অ্যালাউন্স-এর অধীনে কার্যালয় পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রকৃত খরচ বাবদ তারা বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফেরতের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এককালীন অর্থ এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সুরক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকেন তাঁরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি বাসভবন বা স্বয়ংক্রিয় পেনশনের অধিকার শেষ হয়ে যায়।

বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে কেবল ডেভিড ক্যামেরন ও থেরেসা মে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

–টিভি টুডে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

একসঙ্গে জীবিত ১০ প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

আপডেট : ০১:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

একসঙ্গে জীবিত ১০ প্রধানমন্ত্রী, যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

শুধু যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে নয় গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে একসাথে জীবিত বেশি প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাজ্য। এই প্রথম সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে একসাথে ১০ জন প্রধানমন্ত্রী জীবিত থাকার এক অন্যন্য নজিরবিহীন রেকর্ড তৈরি হয়েছে দেশটিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা ও ঘন-ঘন সরকার পরিবর্তন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের কম বয়সের কারণে এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই লেবার পার্টির অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশটির জীবিত প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা ১০ জনে পৌছায়।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি হয়েছে। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে বার্নহ্যামের সরকার গঠনের ফলে বর্তমানে দেশটিতে বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে মোট ১০ জন প্রধানমন্ত্রী জীবিত রয়েছেন। আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে একই সময়ে এতজন বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবিত থাকার ঘটনা এবারই প্রথম।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পাশাপাশি জীবিত ৯ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা জন মেজর, ৭৫ বছরের গর্ডন ব্রাউন, ৭৩ বছরের টনি ব্লেয়ার, ৬৯ বছরের থেরেসা মে, ৬৩ বছরের কিয়ার স্টারমার, ৬২ বছরের বরিস জনসন, ৫৯ বছরের ডেভিড ক্যামেরন, ৫০ বছরের লিজ ট্রাস এবং ৪৬ বছরের ঋষি সুনাক। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর জীবিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা আটে পৌঁছেছিল, যা কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বিদায়ের পর ৯-এ দাঁড়ায় এবং বার্নহ্যামকে নিয়ে তা ১০-এ উন্নীত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে এতজন সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কেবল একটি পরিসংখ্যানগত রেকর্ড নয় বরং এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর এক দশকের মধ্যে সাতজন নেতা ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব সামলেছেন। ঘন ঘন এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের জন্য আলাদা সাংবিধানিক পদ বা আজীবন সরকারি বেতনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে জনজীবনে তাঁদের বিশেষ ভূমিকার কারণে রাষ্ট্র কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ১৯৯১ সাল থেকে চালু হওয়া পাবলিক ডিউটি কস্টস অ্যালাউন্স-এর অধীনে কার্যালয় পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রকৃত খরচ বাবদ তারা বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফেরতের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এককালীন অর্থ এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সুরক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকেন তাঁরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি বাসভবন বা স্বয়ংক্রিয় পেনশনের অধিকার শেষ হয়ে যায়।

বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে কেবল ডেভিড ক্যামেরন ও থেরেসা মে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

–টিভি টুডে