ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী? Logo বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি Logo যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি ইরানের Logo আইসিসিবিতে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী দেশীয় ফার্নিচার মেলা Logo অনিশ্চয়তায় সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম তৈরি, অর্থাভাবে ধুঁকছে গবেষণাকেন্দ্র Logo চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার Logo জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন Logo সমুদ্রবন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে পিপিপি মডেল চায় সোজিৎজ ও এনার্জিপ্যাক Logo বিশ্ব জ্বালানির রূপান্তর পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়াল বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ Logo পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

গণপরিবহনে জিপিএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৯:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৮২ Time View

গণপরিবহনে জিপিএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন

সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামীকাল শনিবার ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম যার সংক্ষেপ নাম জিপিএস, উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন প্রযুক্তি; যা পৃথিবী পৃষ্ঠে বা এর আশেপাশে যেকোনো বস্তুর সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান ও সময় নির্ধারণ করে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়তে এবং নতুন রেজিস্টেশন বা ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে, দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

১ আগস্ট থেকে  নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমান পত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

বর্তমান সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর ফলে গাড়ির সঠিক সময়, অবস্থান ও গতিবিধি ট্যাক করা যাবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো রোধ করা যাবে, এবং দুর্ঘটনা কমবে। আপের মাধ্যমে যাত্রীরা গাড়ির সঠিক অবস্থান ও পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন। গাড়ির রুট লঙ্ঘন ও অননুমোদিত চলাচল বন্ধ হবে, এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নয়, কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সকল সড়কে প্রতিদিনই দেখা যায় গণপরিবহনের এলোমেলো চিত্র। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে দুর্ভোগ বাড়ে সাধারণ যাত্রীদের, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচলও। নষ্ট হয় জীবনের কর্মঘন্টা, এঅবস্থায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখাকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরো কিছু সময় প্রয়োজন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ দেওয়া কিংবা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

চেয়ারম্যান, বিআরটিএ- হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে জিপিএস সংযুক্ত অবস্থায়ই আসতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও গড়ে তুলছে, যেন সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত রয়েছে কি না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কারও জরুরি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা হবে।

পরিবহন সেক্টরের বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব ফল দেবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

-টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে আরও ৫০৮ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

গণপরিবহনে জিপিএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন

আপডেট : ০৯:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গণপরিবহনে জিপিএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন

সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামীকাল শনিবার ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম যার সংক্ষেপ নাম জিপিএস, উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন প্রযুক্তি; যা পৃথিবী পৃষ্ঠে বা এর আশেপাশে যেকোনো বস্তুর সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান ও সময় নির্ধারণ করে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়তে এবং নতুন রেজিস্টেশন বা ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে, দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এদিন থেকে নতুন রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

১ আগস্ট থেকে  নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহনের নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমান পত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

বর্তমান সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, গণপরিবহনে জিপিএস চালুর ফলে গাড়ির সঠিক সময়, অবস্থান ও গতিবিধি ট্যাক করা যাবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো রোধ করা যাবে, এবং দুর্ঘটনা কমবে। আপের মাধ্যমে যাত্রীরা গাড়ির সঠিক অবস্থান ও পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন। গাড়ির রুট লঙ্ঘন ও অননুমোদিত চলাচল বন্ধ হবে, এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নয়, কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সকল সড়কে প্রতিদিনই দেখা যায় গণপরিবহনের এলোমেলো চিত্র। যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে দুর্ভোগ বাড়ে সাধারণ যাত্রীদের, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক যান চলাচলও। নষ্ট হয় জীবনের কর্মঘন্টা, এঅবস্থায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখাকে বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে এরই মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গাড়িতে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এজন্য আরো কিছু সময় প্রয়োজন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ দেওয়া কিংবা নবায়ন করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

চেয়ারম্যান, বিআরটিএ- হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের জন্য এলে জিপিএস সংযুক্ত অবস্থায়ই আসতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও গড়ে তুলছে, যেন সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত রয়েছে কি না। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কারও জরুরি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করা হবে।

পরিবহন সেক্টরের বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা বাস্তব ফল দেবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

-টিভি টুডে