
পুরনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবি ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিনিধি
সরকার গত ২৪ আগস্ট পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তা চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।
ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)-এর নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশের বাজারেও এর সুযোগ থাকা উচিত। নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রেখে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা বৈষম্যমূলক।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন প্রবীণ ব্যবসায়ী ও বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক।
বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক বলেন, রিকন্ডিশন মোটরযান খাত গত পাঁচ দশক ধরে দেশের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহনের চাহিদা পূরণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখাতের সঙ্গে প্রতক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ-লক্ষ মানুষ জড়িত।
আব্দুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের পথ পাড়ি দিয়ে আসা রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত আবার ও অভিঘাতের মুখে পড়েছে। গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশে বিদ্যমান সুবিধা বাতিল করে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হক তাঁর বক্তব্যে, প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি করা গাড়ির ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ, আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন ও সনদ প্রদান এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে বারভিডার এ প্রবীণ নেতা।
এসময়ে বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক বলেন, “তারা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছেন না। বরং বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের গাড়ি সহজলভ্য করতে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি চান।
তিনি বলেন, নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি মানসম্পন্ন ব্যবহৃত গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলে দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক কম দামে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হবে।”
আব্দুল হকের প্রস্তাব অনুযায়ী, শুরুতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে গাড়ির ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ থাকতে হবে। আমদানির আগে অনুমোদিত ও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি ও ব্যাটারি পরীক্ষা করে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আরও বলেছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা গুরুতরভাবে মেরামত করা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ব্যাটারির পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
বক্তব্যে বারভিডার নেতারা বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাটারির মান ও নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যবহৃত গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বয়সসীমা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, গাড়ির অবস্থা পরীক্ষা এবং প্রত্যয়ন— এসব শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের অনিশ্চয়তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার কারণে বিশ্বজুড়েই বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে থাকতে পারে না। তবে শুধু নতুন গাড়ি আমদানির ওপর নির্ভর করলে দেশের বড় একটি অংশের ক্রেতার নাগালের বাইরে থেকে যাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি।”
এ বাস্তবতায় ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দিলে অপেক্ষাকৃত কম দামে ক্রেতাদের কাছে গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে বারভিডা। এতে দেশের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহারও বাড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।
বর্তমান সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করতে এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইভি আমদানিতে করের বোঝা কমিয়েছে। আগে যেখানে মোট করের হার ছিল ৯৩ শতাংশ, তা কমিয়ে ৬৪ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন ও ব্যবহৃত— উভয় ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণে এ ধরনের নীতিগত সুবিধা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার বর্তমান কমিটির মহাসচিব রিয়াজ রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী ও হাবিব উল্লাহ ডনসহ কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে বারভিডা।
–টিভি টুডে
TV Today HD Desk: 














