
বাজারে নিত্যপণ্যে ফের উত্তাপ, বৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটে পণ্যের দাম চড়া


বাজারে ফের ভোগ্য পণ্যের মূল্যে ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এর আগে কপাল পুড়ছে কৃষকের। নষ্ট জলে তলিয়ে গেছে কৃষকের বীজতলা। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে খেতের শাক সব্জির ক্ষতি। বৃষ্টি ও খানাখন্দের জলাবদ্ধতায় খামার থেকে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরবরাহ সংকটের কারণে সবজির পাশাপাশি মাছ, মুরগি ও কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে সাথে নেপথ্যে রয়েছে বাজার সিণ্ডিকেটের কারসাজি। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির সাধারণ মানুষ। হোক সে ঝড় বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পরিবহন সংকট অথবা সিণ্ডিকেটের কারসাজি, সবার আগে ক্ষতিগ্রস্থ হয় যেমন কৃষিজীবী একই সাথে কপালে ঘামের ঢেউ ফুটে উঠে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকার কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাচাবাজার, শ্যামবাজার, কাপ্তান বাজার, ধুপখোলা কাচাবাজার, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগেও ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া অনেক সবজির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় ঠেকেছে।
করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন জাতভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত এক সপ্তাহ আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজি, আবার ১ পোয়া কিনলে মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ও বাজার ভেদে আমদানীকৃত টমেটোর দাম কিছুটা কমলেও এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবজি বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আড়তে সরবরাহ কমে গেছে এবং পাইকারি দাম বেড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েক দিনে সবজির দাম আরো বাড়তে পারে বলেও বিক্রেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরেজমিন বাজার ঘুরে, সবজির পাশাপাশি মাছ গোসতের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম লক্ষ করা গেছে। পাঙাশ মাছ কেজিপ্রতি সাইজভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি ও বড় সাইজের তেলাপিয়া কেজি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাষের কই মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি সাইজভেদে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে উত্তাপের ছোয়া মুরগি ও ডিমের দামও। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। একই সঙ্গে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে আলু ও দেশি পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। আলু জাতভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
-টিভি টুডে
TV Today HD Desk: 














