ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা Logo যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ Logo এক দিনেই সারাদেশে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিল্যাক্সজিন চেয়ার নিয়ে ম্যাজেস্টো ফার্নিচার Logo প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বসবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন Logo রাজউকে ভূমিদস্যুতার মামলায় দন্ডিত হাসেমপুত্র রাসেল কারাগারে  Logo সৌর প্রযুক্তির প্রসারে সোলার এক্সপো শুরু হচ্ছে ৩ নভেম্বর Logo আইসিসিবিতে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী বারভিডা আয়োজিত কার এক্সপো Logo জমে উঠেছে রাজধানীর বসুন্ধরায় দেশীয় ব্র্যান্ডের ফার্নিচার মেলা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিজিয়নাল ব্র্যান্ড, আয়োতো ফার্নিচার

সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১২:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ১৫০ Time View

সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইচ ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ক্রমেই টাকার পাহাড় গড়ছেন বাংলাদেশিরা, জমানো টাকার পরিমাণ হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসএনবি তথ্যে বলা হয় ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ শতাংশ, জমা পড়েছে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক- সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে এটি ছিলো ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি টাকার হিসাবে আট হাজার ৮৪৩ কোটির বেশি। অর্থাৎ, এই সময়ে অর্থ বেড়েছে তিন হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

এর আগে  ২০২১ সালে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাংলাদেশি আমানত। এরপরের দুবছর নজিরবিহীন হারে টাকা তুলে নেয় বাংলাদেশিরা। ফলে ২০২৩ সালে আমানত কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হঠাৎ এই উলম্ফনের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব:বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। তাই এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন— এমন অভিযোগ আছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

আপডেট : ১২:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইচ ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ক্রমেই টাকার পাহাড় গড়ছেন বাংলাদেশিরা, জমানো টাকার পরিমাণ হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসএনবি তথ্যে বলা হয় ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ অর্থাৎ প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ শতাংশ, জমা পড়েছে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক- সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৫১২ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে এটি ছিলো ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি টাকার হিসাবে আট হাজার ৮৪৩ কোটির বেশি। অর্থাৎ, এই সময়ে অর্থ বেড়েছে তিন হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

এর আগে  ২০২১ সালে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। যেটি ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাংলাদেশি আমানত। এরপরের দুবছর নজিরবিহীন হারে টাকা তুলে নেয় বাংলাদেশিরা। ফলে ২০২৩ সালে আমানত কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হঠাৎ এই উলম্ফনের কোনো কারণ উল্লেখ করেনি সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব:বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। তাই এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন— এমন অভিযোগ আছে।