ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা Logo যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ Logo এক দিনেই সারাদেশে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিল্যাক্সজিন চেয়ার নিয়ে ম্যাজেস্টো ফার্নিচার Logo প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বসবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন Logo রাজউকে ভূমিদস্যুতার মামলায় দন্ডিত হাসেমপুত্র রাসেল কারাগারে  Logo সৌর প্রযুক্তির প্রসারে সোলার এক্সপো শুরু হচ্ছে ৩ নভেম্বর Logo আইসিসিবিতে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী বারভিডা আয়োজিত কার এক্সপো Logo জমে উঠেছে রাজধানীর বসুন্ধরায় দেশীয় ব্র্যান্ডের ফার্নিচার মেলা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিজিয়নাল ব্র্যান্ড, আয়োতো ফার্নিচার

ভাংগা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে নেই অগ্রগতি, মিলছে না বৈদেশিক ঋণ

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ০৫:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১২২ Time View

ভাংগা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে নেই অগ্রগতি, মিলছে না বৈদেশিক ঋণ

মিলছে না বৈদেশিক ঋণ, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে অগ্রগতি নেই

দেশের একমাত্র বিভাগ বৃহত্তর বরিশাল এখন ও  রয়েছে রেলওয়ে সংযোগের বাইরে। ধান, নদী-খাল এই তিনে বরিশালখ্যাত এই বিভাগকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে দক্ষিণঞ্চলের মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

বরিশাল বিভাগকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে, ভাঙ্গা জংসন (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে ২০১৮ সালে ১৯ জুন একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু ও ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রনয়ন এবং টেণ্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুতের কাজ শেষ হলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারছে না।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে পায়রা বন্দরে রেলওয়ে অর্থনৈতিক জোন, বরিশালে মাল্টিমোডাল হাব, ১১টি বড় স্টেশন, প্রায় ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেললাইন, কীর্তনখোলা ও পায়রাসহ বিভিন্ন নদীর ওপর ৪৬টি রেলসেতু এবং ৪৪০টি বক্স কার্লভাট নির্মাণের কথা রয়েছে।

এছাড়া প্রায় ২১১ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পুরো রেলপথের দৈর্ঘ্য ধরা হয় ২০৫ কিলোমিটার। বিপুল ব্যয়ের হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগছে। অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া গেলে কাজ হয়তো শুরু করা সম্ভব হবে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প অর্থায়ন সংকটে কার্যত থমকে গেছে।

ফলে পায়রা বন্দর ও পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে রাজধানীসহ দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ভূমি অধিগ্রহণ এলাকায় বসবাসকারী হাজারো পরিবার দীর্ঘ আট বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে বাড়িঘর ও জমিতে লাল রঙের নম্বর দিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার কিংবা জমি হস্তান্তরে অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এখন স্থানীয় জনগণের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

ভাংগা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে নেই অগ্রগতি, মিলছে না বৈদেশিক ঋণ

আপডেট : ০৫:০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভাংগা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে নেই অগ্রগতি, মিলছে না বৈদেশিক ঋণ

মিলছে না বৈদেশিক ঋণ, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে অগ্রগতি নেই

দেশের একমাত্র বিভাগ বৃহত্তর বরিশাল এখন ও  রয়েছে রেলওয়ে সংযোগের বাইরে। ধান, নদী-খাল এই তিনে বরিশালখ্যাত এই বিভাগকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে দক্ষিণঞ্চলের মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

বরিশাল বিভাগকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে, ভাঙ্গা জংসন (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে ২০১৮ সালে ১৯ জুন একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু ও ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রনয়ন এবং টেণ্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুতের কাজ শেষ হলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারছে না।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে পায়রা বন্দরে রেলওয়ে অর্থনৈতিক জোন, বরিশালে মাল্টিমোডাল হাব, ১১টি বড় স্টেশন, প্রায় ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেললাইন, কীর্তনখোলা ও পায়রাসহ বিভিন্ন নদীর ওপর ৪৬টি রেলসেতু এবং ৪৪০টি বক্স কার্লভাট নির্মাণের কথা রয়েছে।

এছাড়া প্রায় ২১১ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পুরো রেলপথের দৈর্ঘ্য ধরা হয় ২০৫ কিলোমিটার। বিপুল ব্যয়ের হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগছে। অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া গেলে কাজ হয়তো শুরু করা সম্ভব হবে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প অর্থায়ন সংকটে কার্যত থমকে গেছে।

ফলে পায়রা বন্দর ও পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে রাজধানীসহ দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ভূমি অধিগ্রহণ এলাকায় বসবাসকারী হাজারো পরিবার দীর্ঘ আট বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে বাড়িঘর ও জমিতে লাল রঙের নম্বর দিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার কিংবা জমি হস্তান্তরে অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এখন স্থানীয় জনগণের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।