
[caption id="attachment_629" align="alignnone" width="300"]
মিলছে না বৈদেশিক ঋণ, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেলপথ নির্মাণে অগ্রগতি নেই[/caption]
দেশের একমাত্র বিভাগ বৃহত্তর বরিশাল এখন ও রয়েছে রেলওয়ে সংযোগের বাইরে। ধান, নদী-খাল এই তিনে বরিশালখ্যাত এই বিভাগকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে দক্ষিণঞ্চলের মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।
বরিশাল বিভাগকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে, ভাঙ্গা জংসন (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে ২০১৮ সালে ১৯ জুন একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু ও ২০৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রনয়ন এবং টেণ্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুতের কাজ শেষ হলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারছে না।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে পায়রা বন্দরে রেলওয়ে অর্থনৈতিক জোন, বরিশালে মাল্টিমোডাল হাব, ১১টি বড় স্টেশন, প্রায় ১৭ কিলোমিটার উড়াল রেললাইন, কীর্তনখোলা ও পায়রাসহ বিভিন্ন নদীর ওপর ৪৬টি রেলসেতু এবং ৪৪০টি বক্স কার্লভাট নির্মাণের কথা রয়েছে।
এছাড়া প্রায় ২১১ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। পুরো রেলপথের দৈর্ঘ্য ধরা হয় ২০৫ কিলোমিটার। বিপুল ব্যয়ের হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগছে। অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া গেলে কাজ হয়তো শুরু করা সম্ভব হবে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প অর্থায়ন সংকটে কার্যত থমকে গেছে।
ফলে পায়রা বন্দর ও পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে রাজধানীসহ দেশের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ভূমি অধিগ্রহণ এলাকায় বসবাসকারী হাজারো পরিবার দীর্ঘ আট বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে বাড়িঘর ও জমিতে লাল রঙের নম্বর দিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার কিংবা জমি হস্তান্তরে অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি এখন স্থানীয় জনগণের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।