
বীর মুক্তিযোদ্ধা, ‘মৃত্তিকার কবি’ ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক আল মুজাহিদী আর নেই

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
কবি আল মুজাহিদী একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাবিব আল মুজাহিদীর বাবা। বুধবার বেলা ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাক হলে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে রাজধানীর ক্রিসেন্ট হাসপাতাল থেকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করছিলো না। প্রায় দু’সপ্তাহ যাবত কথা বলতে পারছিলেন না তিনি।
তিনি ১৯৪৩ সালের ১লা জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রেম, জীবন ও মৃত্তিকা আল মুজাহিদীর কবিতার মূল বিষয়। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, অনুবাদ ও শিশু-কিশোর মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ’। আল মুজাহিদী ষাটের দশকে বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ইতিহাস ও মৃত্তিকানির্ভর জীবন দর্শন তার কবিতাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা। এ কারণে তিনি মৃত্তিকার কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
এছাড়া কবি মুজাহিদী, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার দায়ে ৬বার কারাবরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তাত্ত্বিক হিসেবেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
সাহিত্যজীবনে তিনি ‘হেমলকের পেয়ালা’ ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’ ‘মৃত্তিকা অতি মৃত্তিকা’ ‘ধুরুপদ ও টেরাকোটা’এবং ‘যুদ্ধ নাস্তি’সহ বহু আলোচিত কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসমান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। দৈনিক ইত্তেফাকে তিনি দীর্ঘদিন সাহিত্য সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
TV Today HD Desk: 











