
হজের খরচ আগামীতে অন্তত ৪০ হাজার টাকা কমবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী
হজের খরচ কমাতে ২০২৭ সালের হজকে আরও সাশ্রয়ী করতে বিমান ভাড়া ও সৌদি আরবের বিভিন্ন ফি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু বিমান টিকিট বাবদ ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হজ গমনেচ্ছুদের জন্য এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে একজন হজযাত্রীর ব্যয় সর্বসাকুল্যে অন্তত ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (হাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় হজ ও ওমরা ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এতথ্য জানান।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী বছরের জন্য আর ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শুধু বিমান ভাড়া নয়, সৌদি আরবে আরোপিত বিভিন্ন চার্জ কমানো গেলে হজযাত্রীদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাশ্রয় হবে। গত হজের বিমান টিকিটের খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছিল। এবার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে টিকিটের মূল্য ১লাখ ৩০হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত সৌদি বিমানবন্দরের নির্মাণ কর কমানোর জন্য সৌদি সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুনাফা কমিয়ে হজ ফ্লাইটের ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমাতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসবের বাইরেও সৌদি আরবে বিমানবন্দর কর ও ‘গাকা’ চার্জ বাবদ জনপ্রতি প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এসব চার্জ কমাতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। আগামী সেপ্টেম্বর একটি কারিগরি দল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যোগ করেন মন্ত্রী।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বিমান পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন চার্জ কমানো সম্ভব হলে শুধু এভিয়েশন খাত থেকেই জনপ্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা সাশ্রয় করা যাবে।
এসবের পাশাপাশি হজ প্যাকেজের মোট ব্যয় আরও কমাতে আবাসন খরচ কমানোর দায়িত্ব হজ এজেন্সিগুলোর ওপরই বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে সৌদিতে বাসস্থান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে হজ এজেন্সিগুলোরই।
তবে হাবের সদস্যভুক্ত হজ এজেন্সিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাবের সদস্য এজেন্সিগুলোর প্রায় ৬২ কোটি টাকা বকেয়া দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কার্যক্রম পরিচালনায় স্বস্তি পায়। পাশাপাশি ছোট-বড় সব এজেন্সি সমান সুযোগ পায়, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হজ ক্যাম্পে খাবারের মূল্য লাভবিহীন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাবারের মান বজায় রেখে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ‘নুসুক’ কার্ড ও ‘রোড টু মক্কা’ প্রকল্পের মাধ্যমে হজযাত্রীদের ভোগান্তিও অনেকটাই কমানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামীতে সাধারণ দরিদ্র মানুষের জন্য হজ আরও সহজলভ্য করতে যাকাত তহবিল ব্যবহার কিংবা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি বলেন, দেশের মাত্র ৫শতাংশ হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন। বাকি ৯৫শতাংশ বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। তিনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়- এমন কোনো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে এজেন্সি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এসময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতারা এবং বিপুল সংখ্যক হজ ও ওমরা প্রত্যাশী মেলায় উপস্থিত ছিলেন।
TV Today HD Desk: 











