ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা Logo যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ Logo এক দিনেই সারাদেশে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিল্যাক্সজিন চেয়ার নিয়ে ম্যাজেস্টো ফার্নিচার Logo প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বসবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন Logo রাজউকে ভূমিদস্যুতার মামলায় দন্ডিত হাসেমপুত্র রাসেল কারাগারে  Logo সৌর প্রযুক্তির প্রসারে সোলার এক্সপো শুরু হচ্ছে ৩ নভেম্বর Logo আইসিসিবিতে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী বারভিডা আয়োজিত কার এক্সপো Logo জমে উঠেছে রাজধানীর বসুন্ধরায় দেশীয় ব্র্যান্ডের ফার্নিচার মেলা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিজিয়নাল ব্র্যান্ড, আয়োতো ফার্নিচার

বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক, পুকুরে ফেলে দিচ্ছে পেঁয়াজ

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১০:২১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৯৭ Time View

বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক, পুকুরে ফেলে দিচ্ছে পেঁয়াজ

বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় আর্থিকভাবে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভে অনেক কৃষক নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা বা পুকুরে ফেলে দিচ্ছেন। জেলার সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

কৃষকদের দাবি, বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা। সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় এবার কয়েক গুণ বেশি হয়েছে। ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করা অনেক কৃষক এখন কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফসল ঘরে রাখলে কয়েক মাসের মধ্যে পচে প্রতি মণে প্রায় ১০ কেজি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে লোকসানের মাত্রা আরও বাড়ে।

রোববার (২৮ জুন) সালথা বাজারে আসা কৃষক আহম্মদ মাতুব্বর জানান, এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে পেঁয়াজ আবাদ নিয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে। খোয়াড় গ্রামের আরেক কৃষক দাউদ মাতুব্বর এবার সাত বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই পানির দরে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে তারা আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষক আবুল মাতুব্বর।

শুধু সালথাই নয়, জেলার সদরপুর, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার চাষিরাও একই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কৃষকদের রক্ষায় সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর দাবি উঠেছে। ফরিদপুর শহরের শরীয়তউল্লাহ বাজারের আড়তদার শাহজাহান বেপারি জানান, ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ প্রচুর, এ কারণেই দাম পড়ে গেছে। তবে কৃষকের স্বার্থে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রায় ২৪ টাকা (মণপ্রতি ৯৬০ টাকা)। বাজারদর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে না থাকলেও কৃষকদের সংরক্ষণ পদ্ধতির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন কৃষকদের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষকদের আর বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক, পুকুরে ফেলে দিচ্ছে পেঁয়াজ

আপডেট : ১০:২১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক, পুকুরে ফেলে দিচ্ছে পেঁয়াজ

বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় আর্থিকভাবে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভে অনেক কৃষক নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা বা পুকুরে ফেলে দিচ্ছেন। জেলার সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

কৃষকদের দাবি, বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা। সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় এবার কয়েক গুণ বেশি হয়েছে। ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করা অনেক কৃষক এখন কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফসল ঘরে রাখলে কয়েক মাসের মধ্যে পচে প্রতি মণে প্রায় ১০ কেজি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে লোকসানের মাত্রা আরও বাড়ে।

রোববার (২৮ জুন) সালথা বাজারে আসা কৃষক আহম্মদ মাতুব্বর জানান, এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে পেঁয়াজ আবাদ নিয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে। খোয়াড় গ্রামের আরেক কৃষক দাউদ মাতুব্বর এবার সাত বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই পানির দরে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে তারা আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষক আবুল মাতুব্বর।

শুধু সালথাই নয়, জেলার সদরপুর, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার চাষিরাও একই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কৃষকদের রক্ষায় সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর দাবি উঠেছে। ফরিদপুর শহরের শরীয়তউল্লাহ বাজারের আড়তদার শাহজাহান বেপারি জানান, ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ প্রচুর, এ কারণেই দাম পড়ে গেছে। তবে কৃষকের স্বার্থে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রায় ২৪ টাকা (মণপ্রতি ৯৬০ টাকা)। বাজারদর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে না থাকলেও কৃষকদের সংরক্ষণ পদ্ধতির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন কৃষকদের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকদের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষকদের আর বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না।’