
দিন বদলের আশায় বিদেশ গিয়ে লাশ হয়ে ফিরছেন প্রবাসীরা
একটু সচ্ছল বা উন্নত জীবনের আশায় পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে পাড়ি জমানো হাজারো বাংলাদেশি মানুষ ফিরছেন লাশ হয়ে। মাঝেমধ্যেই কোন না কোন বিমান বন্দরে আসছে প্রবাসী কর্মীদের কফিনবন্দী লাশের খবর। এদের অধিকাংশই মৃত্যু হচ্ছে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ (স্টোক), হৃদরোগ এবং কর্মক্ষেত্রে নানা রকমের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যায়। ওই সকল পরিবারে এসব সদস্যদের অল্পবয়সে আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসছে ঘোর অন্ধকার।
উন্নত জীবনের প্রত্যাশা আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁরা বিদেশে পাড়ি জমান। কেউ ছুটেন ইউরোপ-আমেরিকায়, আবার কারও গন্তব্য হয় মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়া। কিন্তু সেই বিদেশেই কাজের সন্ধানে বের হয়ে অনেকে শিকার হন দুর্ঘটনার। ঘটছে প্রাণহানিও। দিনদিন বিদেশের মাটিতে প্রবাসীর লাশের সারি যেন দীর্ঘই হচ্ছে। গেল দুই সপ্তাহে দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ যুবক প্রবাসে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা একমাত্র উপার্জনক্ষম হওয়ায় দেশে থাকা পরিবারগুলো হয়ে পড়েছে দিশাহারা। ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ যুবক প্রাণ হারান। কাজে যাওয়ার সময় তাদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ৩০ জুন তাদের লাশ দেশে আসে। এ সময় পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বিমানবন্দরের পরিবেশ।
সিলেট প্রতিনিধি জানান, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চার বছর আগে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাদির আহমদ। আগামী মাসে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দেশে ফিরেছে লাশ। অন্যদিকে মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতারে ফিরেছিলেন জুবায়ের আহমদ। প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মড়া মিয়াও নিহত হয়েছিলেন। বাবার মতো প্রবাসের মাটিতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জুবায়ের।
জুবায়েরের বোনজামাই নাজমুল ইসলাম জানান, পরিবারটি আগেও অসহায় ছিল, এখন আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। ঋণ করে জুবায়ের বাড়িতে ঘর তৈরি করেছিলেন। ভেবেছিলেন বিদেশ গিয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু এখন ঋণ পরিশোধ করা দূরের কথা, পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই অবশিষ্ট রইল না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- ভিন্নপরিবেশ অপ্রচলিত বা অনভ্যস্ত কাজ, অমানবিক জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নানাবিধ মানসিক চাপের মধ্যে থেকে কাজ করায় ঠেলে দিচ্ছে প্রবাসী কর্মীদের অকাল মৃত্যুর দিকে।
TV Today HD Desk: 












