ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা Logo যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ Logo এক দিনেই সারাদেশে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিল্যাক্সজিন চেয়ার নিয়ে ম্যাজেস্টো ফার্নিচার Logo প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বসবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন Logo রাজউকে ভূমিদস্যুতার মামলায় দন্ডিত হাসেমপুত্র রাসেল কারাগারে  Logo সৌর প্রযুক্তির প্রসারে সোলার এক্সপো শুরু হচ্ছে ৩ নভেম্বর Logo আইসিসিবিতে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী বারভিডা আয়োজিত কার এক্সপো Logo জমে উঠেছে রাজধানীর বসুন্ধরায় দেশীয় ব্র্যান্ডের ফার্নিচার মেলা Logo আইসিসিবি ফার্নিচার মেলায় রিজিয়নাল ব্র্যান্ড, আয়োতো ফার্নিচার

মুম্বইয়ে মহরমের তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষ হত্যার পরিকল্পনা, মূল অভিযুক্ত আটক

  • TV Today HD Desk:
  • আপডেট : ১০:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৯৬ Time View

মুম্বইয়ে মহরমের তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষ হত্যার পরিকল্পনা, মূল অভিযুক্ত আটক

ফৈয়জ প্রেমজি জব্দ করা ক্যাপসুল। ছবি সংগৃহীত

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে রেয়ো রোডের কাছে একটি মহরমের শোভাযাত্রায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে পুলিশ। শোভাযাত্রায় বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করছিলেন অভিযুক্ত। তিন স্বেচ্ছাসেবী মহিলার তৎপরতায়ই ধরা পড়ে যান তিনি।  বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম ফৈয়জ প্রেমজি। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ জুন) বাইকুল্লা এলাকার রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে রেয় রোডে। অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছে প্রায় ১৫০০০ মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন তিনি।

তদন্তে জানা যায়, ফৈয়জের বিতরণ করা ক্যাপসুল সেবনের পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে সবাই আশঙ্কামুক্ত। পরীক্ষায় ক্যাপসুলে জিঙ্ক ফসফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত ও প্রাণঘাতী রাসায়নিক।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফৈয়জ স্বীকার করেছেন যে, মিছিলে বিপুল মানুষের মধ্যে এসব ক্যাপসুল ছড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। শনিবার (২৭ জুন) আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার (ডিসিপি) জয়ন্ত মীনা জানান, অভিযুক্তের কাছে বিপুল সংখ্যক ক্যাপসুল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আরও প্রায় ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল ও ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে এসব ক্যাপসুলকে ব্যথানাশক ওষুধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্যাপসুল বলে দাবি করে উপস্থিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করছিল। ওই ক্যাপসুল খাওয়ার পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের বমি, পেটব্যাথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের সন্দেহ ও তাঁদের দ্রুত তৎপরতায় আক্লান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়এবং তারা অভিযুক্তকে বাধা দিয়ে পুলিশকে খবর দেন এবং মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করেন। এতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

বর্তমানে সকলেই বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ফৈয়জের পরিকল্পনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জিঙ্ক ফসফাইড কী?
জিঙ্ক ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রাণঘাতী এবং এটি সরাসরি হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিষের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষেধক নেই। জিঙ্ক ফসফাইড বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা। সেখানে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সহায়তার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষার চেষ্টা করা হয়।

কে এই ফৈয়জ প্রেমজি?

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত একজন বিবিএ স্নাতক। তদন্তে তার ইরান ও ইরাক সফরের তথ্যও সামনে এসেছে। ঘটনার পেছনে কোন জঙ্গি যোগ বা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কিভাবে ধরা পড়ে কুকীর্তি?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজন মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকার উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁদের একজন প্রথম লক্ষ্য করেন যে অভিযুক্ত সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল বিলি করছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পাশাপাশি লাউডস্পীকারে ঘোষণা করে মানুষকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। স্বেচ্ছাসেবিকারা একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে গুড়ো জাতীয় পদার্থ দেখতে পান, যার পরেই তাঁদের সন্দেহ আরও বাড়ে।

সূত্র: নিউজ 18 বাংলা

-টিভি টুডে

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আজ ও গাজীপুরে দুইশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

মুম্বইয়ে মহরমের তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষ হত্যার পরিকল্পনা, মূল অভিযুক্ত আটক

আপডেট : ১০:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মুম্বইয়ে মহরমের তাজিয়া মিছিলে ১৫ হাজার মানুষ হত্যার পরিকল্পনা, মূল অভিযুক্ত আটক

ফৈয়জ প্রেমজি জব্দ করা ক্যাপসুল। ছবি সংগৃহীত

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে রেয়ো রোডের কাছে একটি মহরমের শোভাযাত্রায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে পুলিশ। শোভাযাত্রায় বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করছিলেন অভিযুক্ত। তিন স্বেচ্ছাসেবী মহিলার তৎপরতায়ই ধরা পড়ে যান তিনি।  বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম ফৈয়জ প্রেমজি। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ জুন) বাইকুল্লা এলাকার রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে রেয় রোডে। অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছে প্রায় ১৫০০০ মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন তিনি।

তদন্তে জানা যায়, ফৈয়জের বিতরণ করা ক্যাপসুল সেবনের পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে সবাই আশঙ্কামুক্ত। পরীক্ষায় ক্যাপসুলে জিঙ্ক ফসফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত বিষাক্ত ও প্রাণঘাতী রাসায়নিক।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফৈয়জ স্বীকার করেছেন যে, মিছিলে বিপুল মানুষের মধ্যে এসব ক্যাপসুল ছড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। শনিবার (২৭ জুন) আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার (ডিসিপি) জয়ন্ত মীনা জানান, অভিযুক্তের কাছে বিপুল সংখ্যক ক্যাপসুল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আরও প্রায় ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল ও ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডারের তথ্যও পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে এসব ক্যাপসুলকে ব্যথানাশক ওষুধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্যাপসুল বলে দাবি করে উপস্থিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করছিল। ওই ক্যাপসুল খাওয়ার পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের বমি, পেটব্যাথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের সন্দেহ ও তাঁদের দ্রুত তৎপরতায় আক্লান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়এবং তারা অভিযুক্তকে বাধা দিয়ে পুলিশকে খবর দেন এবং মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করেন। এতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

বর্তমানে সকলেই বিপদমুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ফৈয়জের পরিকল্পনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জিঙ্ক ফসফাইড কী?
জিঙ্ক ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রাণঘাতী এবং এটি সরাসরি হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিষের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষেধক নেই। জিঙ্ক ফসফাইড বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা। সেখানে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সহায়তার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষার চেষ্টা করা হয়।

কে এই ফৈয়জ প্রেমজি?

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত একজন বিবিএ স্নাতক। তদন্তে তার ইরান ও ইরাক সফরের তথ্যও সামনে এসেছে। ঘটনার পেছনে কোন জঙ্গি যোগ বা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কিভাবে ধরা পড়ে কুকীর্তি?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজন মহিলা স্বেচ্ছাসেবিকার উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁদের একজন প্রথম লক্ষ্য করেন যে অভিযুক্ত সন্দেহজনকভাবে ক্যাপসুল বিলি করছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পাশাপাশি লাউডস্পীকারে ঘোষণা করে মানুষকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। স্বেচ্ছাসেবিকারা একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরে গুড়ো জাতীয় পদার্থ দেখতে পান, যার পরেই তাঁদের সন্দেহ আরও বাড়ে।

সূত্র: নিউজ 18 বাংলা

-টিভি টুডে