কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল: দীনেশ ত্রিবেদী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
‘উনি একজন মহাপুরুষ। এ ধরনের লোক, এ ধরনের মহাপুরুষ পৃথিবীতে খুবই কম এসেছেন। উনি সব সময় আমাদের মনে থাকবেন। সত্যি বলতে গেলে, কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরুস্কার পাওয়া উচিত ছিল’। কথাগুলো বলেছেন, দীনেশ ত্রিবেদী’।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ছায়ানট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নজরুলসন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এ আয়োজন করে।
বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘উনি একজন মহাপুরুষ। এ ধরনের লোক, এ ধরনের মহাপুরুষ পৃথিবীতে খুবই কম এসেছেন। উনি সব সময় আমাদের মনে থাকবেন। সত্যি বলতে গেলে, কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।’
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবাইকে নজরুলের আদর্শ ধারণ করতে হবে। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য এটা খুব জরুরি। চমৎকার এ আয়োজনের জন্য ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মাঝে সাংস্কৃতিক এ বন্ধন আজীবন অক্ষুণ্ন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নজরুলকে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবে বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। তিনি একই সঙ্গে প্রেম ও সাম্যের কবি। তাঁর সৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের কথা, মানবতা ও সাম্যের বার্তা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি ‘সন্ধ্যা গোধূলি লগনে কে’, ‘মোর প্রথম মনের মুকুল’, ‘আজ যে রাজাধিরাজ’, ‘শিউলিতলায় ভোরবেলায়’, ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ ও ‘গোধূলির রঙ ছড়ালে কে গো’সহ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন।
উপস্থিত ছিলেন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় তিনি নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন। নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা ও তাঁর দল ‘ভাবনা’ নজরুলের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। গান, কবিতা, আবৃত্তি ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির সৃষ্টিকে স্মরণ করে শেষ হয় স্মৃতিচারণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
–টিভি টুডে