পাঁচ দিনব্যাপী বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অর্থনীতিতে দ্বিতীয় সরবোচ্চ মূল্য সংযোজনকারি ও একক দেশীয় কাঁচামাল-নির্ভর সম্ভাবনাময় চামড়া খাত। শতভাগ দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল বা চামড়ার জোগান মেলায় এই খাতটিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর আয়োজনে ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সামস্টিক অর্থনীতিতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। তৈরি পোশাকের পর এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী মেলাটি উদ্বোধন করেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা ১৬ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় মোট ৪৯টি স্টলের মধ্যে ৪৩টি স্টলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তা এবং ৫টি স্টলে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্যের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করছেন। বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে চামড়াজাত পণ্যের ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হাজারীবাগের উদ্যোক্তারাও মেলায় অংশগ্রহণ করছেন।
দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাবু লেদার, 3টেক, গ্লোসি লেদার গুডস বিডি ও বে’ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করেছে।
পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধনকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বয়ন, রং করা, জুতা তৈরি ও কারুশিল্পসহ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন শিল্প একসময় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের চামড়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে সঠিক নীতি, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিসিক চেয়ারম্যান জনাব বেনজীর আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বিসিক এ মেলার আয়োজন করেছে।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিসিকের শিল্পনগরীগুলোর অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিসিক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে জানান তিনি। ।
অনুষ্ঠিত এ মেলার মাধ্যমে দেশীয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন এবং উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই শিল্পের সঙ্গে প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষোভাবে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান জড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের মোট চামড়া উৎপাদনের প্রায় ১.১৩ শতাংস জোগান দেয়। দেশের ভেতরের গবাদি পশু থেকেই এর শতভাগ কাঁচামাল আসে, যার প্রধান উৎস ঈদুল আজহার সময়।
বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। সঠিক নীতি সহায়তা ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা গেলে এই খাতের সম্ভাবনা অপরিসীম।
–টিভি টুডে