ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বারভিডার মানব বন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবহৃত রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক যান বা ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন ও মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।নিষিদ্ধ না করে নিরাপদ, পরিবেশ বান্ধব এবং নির্দিষ্ট বয়স ও কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ভেহিকেল আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বারভিডা।
এ দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। দাবি না মানলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টন আনন্দ সিনেমা হলের সামনে আয়োজিত মানব বন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজুর রহমান।
মানব বন্ধনে সাবেক সভাপতি: আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু, সাবেক সভাপতি: মো.হাবিবুল্লাহ ডন, সিনিয়র সহ-সভাপতি: সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক: মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, সাধারণ পরিষদের সদস্য এবং এখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যবসায়ীরা এ মানব বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে তারা দাবি করেন, আমদানি নীতি অনুযায়ী ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ভেহিকেল আমদানির সুযোগ থাকলেও গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে পুরোনো আদলের পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তির মোটরযান ব্যবহারের সুযোগ থেকে গ্রাহকদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করে বারভিডা।
বিশ্বের বহু দেশে ব্যবহৃত রিকন্ডিশন্ড ও ইলেকট্রিক ভেহিকেল আমদানি ও রপ্তানি হচ্ছে। জাপান থেকে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড টয়োটা, নিশান, সুবারু, লেক্সাস ও হোন্ডা এবং গণচীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ইভি গাড়ির রপ্তানি নিয়মিতভাবে বাড়ছে।
স্থানীয় অর্থনীতি, দূষণমুক্ত পরিবেশ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ইভি আমদানি করে থাকে—এমন দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, যুক্তরাজ্য—সর্বোচ্চ ১০ বছর, জর্জিয়া—৬ বছর, নিউজিল্যান্ড—বয়সসীমা নির্বিশেষে, কেনিয়া—আট বছর, সৌদি আরব—৫ বছর, পাকিস্তান—তিন বছর, শ্রীলঙ্কা—পাঁচ বছর, আয়ারল্যান্ড—বয়সসীমা নির্বিশেষে এবং কাজাখস্তান—ডব্লিওটিও-এর বিধানের আলোকে।
গাড়ি মার্কেটের বাস্তবতায় নতুন ইভির মূল্য মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনকারী পেশাজীবী ও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ইভির বাজার দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।
নিয়ন্ত্রিত আমদানি কাঠামোর প্রেক্ষাপটে বারভিডার প্রস্তাবনা:
১। প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত/রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়া।
২। ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা। ক্রেতার স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ও উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ব্যাটারির আয়ুষ্কাল সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা।
৩। আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে কার্যকর পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা।
৪। বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করা।
৫। ইভি ব্যাটারির জন্য ব্যাটারি রিসাইক্লিং/ সেইফ ডিসপোজাল ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা।
৬। চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে প্রকৃত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে শুল্ক ও কর-প্রদত্ত প্রণোদনা অব্যাহত রাখা।
৭। চলতি বাজেটে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের জন্য মূল্যস্তরভিত্তিক যে শুল্ক/কর কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এর যৌক্তিক বিন্যাস ও শুল্ক কাঠামোর স্তর পুনর্নির্ধারণ করা।
৮। নির্দিষ্ট সময় পর নীতির ফলাফল মূল্যায়ন করে বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত পুনর্বিবেচনা করা।
বানব বন্ধনের বক্তব্যে হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন আমাদের একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা করতে হয়, জ্বালানি সাশ্রয় করতে হবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে হবে, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করতে হবে, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং ভবিষ্যতের ইভি শিল্পের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এসব লক্ষ্যকে একসঙ্গে বিবেচনা করেই ইভি আমদানি নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ সময় বারভিডা প্রেসিডেন্ট ও প্রবীণ ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল হক বলেন, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি। নতুন ইভির দাম অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, এতে তুলনামূলক কম দামে নতুন প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থেকে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আমাদের আবেদন পৌঁছে দিয়েছি। আশা করি, গণতান্ত্রিক সরকার জনস্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবেন। অন্যথায় রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতের ব্যবসায়ীদের পেশা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বৃহত্তর ক্রেতাগোষ্ঠীর স্বার্থে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবো।
–টিভি টুডে