
পচিশ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেমস-গ্লোবাল ইউএসএর আয়োজনে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প-সংশ্লিষ্ট মেশিনারি, ইয়ার্ন, ফেব্রিকস, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস্টাফ, কেমিক্যালস ও সমসাময়িক উৎপাদন ব্যবস্থার অ্যাকসেসরিজের উপস্থিতি নিয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘টেক্সটাইল সিরিজ অফ এক্সিবিশন ২০২৬। সেমস-গ্লোবাল ইউএসএর উদ্যোগে পূর্বাচল বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ প্রদর্শনী চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদর্শনীটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সেমস-গ্লোবাল, ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম জানান, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনে বহুদুর এগিয়েছে। এই প্রদর্শনী দেশীয় শিল্প ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেমস-গ্লোবালের গ্রুপ সিইও এস. এস. সারওয়ার; সেমস-গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম এবং সেমস-গ্লোবালের গ্রুপ ডিরেক্টর অভিষেক দাস।
আয়োজিত এক্সপোতে, একই ছাদের নিচে ‘২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’, ‘২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬’ এবং ‘৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’ গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশকে বিজনেস হাব হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সেমস-গ্লোবালের অনুষ্ঠেয় প্রদর্শনীসমূহ সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এ ত্রয়ী প্রদর্শনীতে আগত বিদেশি ক্রেতা ও বিক্রেতার বাংলাদেশ ভ্রমণ, পর্যটন তথা মাইস শিল্পের সম্প্রসারণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রদর্শনীতে ৩৭টি দেশের প্রায় ১হাজার ৪শ ৭৫টির বেশি কোম্পানি, ২হাজার ২শ ৪৫টির ও বেশি বুথ নিয়ে এই প্রদর্শনীতে অংশ নেবে, যেখানে ১৬ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী ভিজিটরদের সমাগম হবে মনে করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। প্রদর্শনীতে আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’ যেখানে টেক্সটাইল শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, আইওটি ও ক্লাউড সিস্টেমের ব্যবহার তুলে ধরা হবে।
সেমস-গ্লোবাল, ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, এই তিনটি প্রদর্শনী বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পের সর্ববৃহৎ এবং সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, যা বিগত ২৪ বছরের ধারাবাহিকতায় এবছর ২৫ বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রদর্শনীতে ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের জন্য বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) মিটিং প্লেস, যেখানে ব্যবসার প্রসারে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতা এবং সরবরাহকারীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন।
মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, প্রদর্শনীতে বিদেশি ও দেশি সরবরাহকারী, ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের দ্বিপক্ষীয় মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দেশের বাইরে গিয়ে ক্রেতা অনুসন্ধান বা ভিসা জটিলতা পোহাতে হবে না। বরং অর্থ, শ্রম ও সময়ের সাশ্রয়ে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প সংশ্লিষ্ট ক্রেতা এবং সরবরাহকারীরা সমঝোতায় পৌছাতে পারবেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার কারণে এবারের প্রদর্শনী বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন টেকসই উৎপাদন, পণ্যের উৎস ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, দ্রুত সরবরাহ, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, উৎপাদনে নমনীয়তা প্রভৃতির ওপর গুরুত্ব প্রদান করছেন। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উৎপাদন প্রযুক্তি এবং তথ্যনির্ভর উৎপাদন বিশ্বব্যাপী শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করছে। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় টেক্সটাইল সিরিজের ২৫তম বাংলাদেশ সংস্করণ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, উপকরণ, জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্পে উৎপাদনশীলতা, আন্তর্জাতিক মান ও নিয়ম মেনে চলা এবং টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই পরিবর্তনের ধারায় টেক্সটাইল সিরিজ বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্প এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। সময়ের সঙ্গে এটি একটি সাধারণ প্রদর্শনী থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ - বার্ষিক ব্যবসায়িক মিলনমেলা ও আন্তর্জাতিক বি-টু-বি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। যা পোশাক খাত সংশ্লিষ্টে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।
২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬: আধুনিক পোশাক ও টেক্সটাইল প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং স্মার্ট মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেশিনারির প্রদর্শনী। ২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬: বৈশ্বিক সোর্সিং সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের সুতা, কাপড়, ট্রিমস ও অ্যাকসেসরিজ সম্পর্কিত প্রদর্শনী। ৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬: টেকসই ও পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ডাইস্টাফ ও স্পেশালটি কেমিক্যালসের প্রদর্শনী।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ, নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি পেশাদার বহুজাতিক প্রদর্শনী ও সম্মেলন আয়োজক সংস্থা। সেমস-গ্লোবালের কার্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিল্পখাত, উৎপাদক, সরবরাহকারী, ক্রেতা, ব্যবসায়িক সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ, সোর্সিং এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। সেমস-গ্লোবালের টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স এশিয়া, আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও সোর্সিং অঞ্চলের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য যে প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৪টি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারে টেক্সটাইল শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন, সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে।
এবারের এক্সিবিশনে বিশেষ সংযোজন হিসেবে হল বি-তে থাকবে ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’ বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা এ জোনে তুলে ধরা হবে।
গার্মেন্টস শিল্পের সর্ববৃহৎ এ প্রদর্শনী আগামী ২-৫ সেপ্টেম্বর চার দিনব্যাপী প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ), পূর্বাচল, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হইবে।
–টিভি টুডে