
-শেখ নূর ইসলাম
কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ইতিহাসের ভিন্ন ব্যাখ্যা কখনো মানুষের জীবনের কর্মকে খাটো করতে পারে না। আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যও সেদিনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। গত দুই বছরের মতো এবারও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে দিনটি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ থাকছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা।
অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের টানা পনর বছর দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। শোক র্যালি, মিলাদ মাহফিল, গণভোজ, ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিনটি পালন করা হতো।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দিবসটি আগের মতো পালন করা হচ্ছে না। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দিবসটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। ফলে ২০২৪-২৫ সাল থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করা বন্ধ রয়েছে।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ফলে এ বছরও ১৫ আগস্ট দিনটিতে কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকছে না।
আজ থেকে ৫১ বছর আগে রচিত হয় ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে ঘৃণিত, বর্বর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একটি দিন ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেদিন ভোরবেলা ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয় রাজনৈতিক প্রেরণাসঞ্চারিণী তাঁর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে– মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল প্রমুখ। তবে প্রবাসে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
চব্বিশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির আগের ১৫ বছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হতো ‘শোকাবহ আগস্ট’। কিন্তু সরকার পতনের পর বিভিন্ন সময় ছোট খাট কর্মসূচি পালন করলেও এ বছরই মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে আজ রাতে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করার কথা জানানো হয়েছে। এতে ভারতে অবস্থানরত দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। এ ছাড়া ফেসবুকে কেউ কেউ বারবার আক্রমণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ এবং বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘোষণা দিচ্ছেন।
এবছর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধেও কোনো কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছেন না দলীয় নেতাকর্মীরা। গণঅভ্যুত্থানের বছর ২০২৪ সালেও সেখানে গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে স্বল্প পরিসরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। তবে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢোকার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
–টিভি টুডে