
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগের গতি বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমস্যা নিরসনে আজ সোমবার রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস এসোসিয়েশনের (বেজিয়া) মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বেজিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি এম এ জব্বার। দলে আরো ছিলেন বেজিয়া’র সহ-সভাপতি হালিমুজ্জামান, পরিচালক দেলোয়ার এইচ টিটু, সিইও ড. অপরূপ চৌধুরী এবং সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে বিজিএমইএ’র পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। আলোচনায় অংশ নেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান।
সভায় সরকারের স্বল্পমেয়াদি অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য ৫টি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুকূলে বরাদ্দকৃত প্লটগুলোর বর্তমান অগ্রগতি এবং বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস এসোসিয়েশনের (বেজিয়া) চেয়ারম্যান এম এ জব্বার জানান, বহু উদ্যোক্তা প্লটের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করলেও অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধার ধীরগতির কারণে আস্থাহীনতায় ভুগছেন। ফলে উল্লেখিত ৫টি জোনে ৩৯ হাজার একর জমির উপর মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। মোট বরাদ্দকৃত জমির মাত্র ৩৭ শতাংশ বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও শিল্প-পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং কারখানা পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হওয়ার আগে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপের বিরুদ্ধে যৌথ লবিংয়ের ওপর জোর দেয়া হয়।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে উভয় সংগঠন কয়েকটি মূল পলিসি ইস্যুতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যৌথভাবে তুলে ধরার ব্যাপারে একমত পোষণ করে।
যৌথ সভায় দাবি জানানো হয়, প্রতিশ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহৃত ইউটিলিটি বিলের ওপর বেজা আরোপিত সার্ভিস চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানের সাথে সমতা রক্ষার্থে জোনভুক্ত ইউনিট ইনভেস্টরদের জন্য খাতভিত্তিক সমপরিমাণ নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া মাস্টার লিজ হোল্ডার এবং পরবর্তীতে সাব-লিজ গ্রহীতা উভয় স্তরে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অর্থাৎ দ্বৈত করারোপ দূর করে লিজ ট্যারিফের ওপর ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করার দাবি জানানো হয়। দেশীয় বন্ড-লাইসেন্সধারী রফতানিকারকদের কাছে প্রচ্ছন্ন রফতানির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও বাড়তি সময় অপচয় রোধে ইএক্সপি ও ইপি ব্যতিরেকে প্রচ্ছন্ন রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির বিষয়টির উপর বিশেষভাবে জোর দেয়া হয়।
এছাড়া সভায় ৯৯ বছরের লিজ মিউটেশন ব্যাংকযোগ্য করা, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে বেজিয়া চেয়ারম্যানএম এ জব্বার উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিজিএমইএ এর ৪১ টি ইউনিট ইনভেস্টর রয়েছে। ফলে গার্মেন্টস খাতের জাতীয় ও নীতিগত বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজিএমইএ ও বেজিয়ার একসাথে কাজ করার সুযোগ ও যৌক্তিকতা রয়েছে।
বেজিয়া চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রেক্ষিত বিবেচনায় রেখে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেকসই শিল্পায়ন নিশ্চিত করা ও উভয় সংগঠনের পারস্পরিক সমন্বয়কে আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে বিজিয়ার পরিচালনা বোর্ডে বিজিএমইএ এর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার আন্তরিক আহবান জানান।
এ সময়, বিজিএমইএ সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এতে সম্মতি প্রকাশ করেন এবং দ্রুততার সাথে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে যোগ্য প্রতিনিধি মনোনীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোচ্য বৈঠকের সমাপনীতে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিজিএমইএ ও বেজিয়ার এ সুদূরপ্রসারী যৌথ পলিসি অ্যাডভোকেসি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও নীতিগত জটিলতা নিরসনে দ্রুত ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করবে।
–টিভি টুডে