
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবারও ধারাবাহিক চমক দেখিয়ে সাফল্য ধরে রেখেছে নরসিংদীর ‘নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস’। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ৩৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সবাই পাশের পাশাপাশি শতভাগ শিক্ষার্থী অর্জন করেছে জিপিএ-৫। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৭৬ এবং ব্যাবসায় বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে অনলাইনে এসএসসির ফল প্রকাশের পর এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস জানিয়েছে, ২০০৮ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে টানা শতভাগ পাসসহ প্রায় প্রতিবছরই বোর্ডে দেশ সেরার স্থান দখল করে আসছে।
তা ছাড়া এই স্কুলের একটু পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল, ২০২৩ সালে ২৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, ২০২৪ সালে ২৯৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৯৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এছাড়া ২০২৫ সালে ৩২০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাশসহ সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবছরও তাঁরা সেই ধারাবাহিক কৃতিত্বের অধিকারি।
শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, বাবা-মা ও শিক্ষকদের পরিশ্রমের কারণেই আমাদের এ ফলাফল। এ ছাড়া আমরা অনেকেই একটি ক্লাসও মিস করিনি। কোনো পরীক্ষা-মডেল টেস্ট বাদ দিইনি। তাই চর্চাটা খুব ভালো হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় ২০০৮ সালে থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী মিসেস নাছিমা বেগমর নামে যৌথভাবে ‘নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস’ প্রতিষ্ঠা করেন।
হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, মূলত নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।
আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল করছে। এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ সেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। সারাদেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি, আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হোক। যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।
তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ। পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ- আমরা একে অপরের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ২০০। হোমসে ১৭৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক- শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়টি।
একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল মন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা। স্যারের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা, সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে। এ ছাড়া আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এত কঠোর পরিশ্রম করেন যেখানে ভালো ফলাফল করতে বাধ্য। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, কো-অ্যাক্টিভিটি কারিকুলামেও দেশসেরা অর্জন করে আসছি। কথাগুলো বলছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন।
–টিভি টুডে