
বিশ্ব স্বাস্থ্য সস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৩,২৫০ জনের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রান হারান, যার বার্ষিক সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১১লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে অর্ধেকের ও বেশি দুর্ঘটনা অরক্ষিত পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের সাথে ঘটে থাকে। তবে এসব মৃত্যুর ৯২ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে হয়ে থাকে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সমন্বিত বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়; সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, অর্থ, শিক্ষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন এবং নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগকে অবশ্যই শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, কার্যকর সমন্বয় এবং জবাবদিহিতার কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
-টিভি টুডে