
‘হৃদয়ে ঢাকা’ স্লোগান ধারণ করে রাজধানী ঢাকা প্রতিষ্ঠার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ থেকে ৭ আগস্ট সপ্তাহব্যাপী ‘ঢাকা উৎসব’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
তবে আবহওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আয়োজনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ( ডিএসসিসি) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক আব্দুস সালাম।
আব্দুস সালাম বলেন, একসময় পৌরসভা (মিউনিসিপ্যালিটি) হিসেবে যাত্রা শুরু করা ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নাগরিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় সম্পদ।
এগুলো মানুষের হৃদয়ে পুনর্জাগরিত করতেই এই আয়োজন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জানান, উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগের দিন পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে পুরোনো পৌরসভা ভবনের স্থান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। হাতি, ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ঢোলসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের নানা উপাদান নিয়ে শোভাযাত্রাটি নগর ভবন হয়ে লালবাগ কেল্লায় গিয়ে শেষ হবে।
১ আগস্ট সকালে সাইকেল র্যালি ও ম্যারাথনের আয়োজন করা হবে। বিকেলে লালবাগ কেল্লায় মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেখানে ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, লেজার শোর মাধ্যমে ঢাকার ইতিহাস উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। প্রথম দিনের আয়োজন শেষ হবে ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
পরবর্তী দিনগুলোতে ঘুড়ি উৎসব, ফুড ফেস্টিভ্যাল, ‘ঢাকাকে নিয়ে আড্ডা’, সুফি সন্ধ্যা, সাত দিনব্যাপী পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বুড়িগঙ্গায় নৌকাবাইচ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।
এ ছাড়া ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার, ইতিহাসভিত্তিক বই ও প্রকাশনা এবং ঢাকার বিজ্ঞানীদের নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে উৎসব উপলক্ষে বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঘোড়ার গাড়িতে ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ এবং পুরোনো স্টিমারে বুড়িগঙ্গা ভ্রমণের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে সময় পরিবর্তন করা হতে পারে।
তিনি বলেন, উৎসবটি আমরা অবশ্যই করব। কারণ এটি আমাদের প্রাণের উৎসব, আমাদের প্রাণের শহর ঢাকা।
আব্দুস সালাম আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনার নীরব সাক্ষী ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ।