
কুমিল্লা ২আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিল্পপতি নারী উদ্যোক্তা এবং নিটল-নিলয় গুরুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদ মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন; চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ব্যাংককের একটি হাসপাতালে।

রোববার (২১ জুন) ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) ‘মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ।‘
নিটল-নিলয় গুরুপের ফাইন্যান্সের দায়িত্বে নিয়োজিত নিয়াজ মাহমুদ বলেন, “সেলিমা আহমাদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবারের মধ্যে মরদেহ ঢাকায় পৌছাতে পারে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
সেলিমা আহমাদ দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গুরুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কুমিল্লা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন এবং নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অতি পরিচিত মুখ ছিলেন সেলিমা আহমাদ। তিনি বাংলাদেশ ইউমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি কুমিল্লা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ও ছিলেন তিনি।
তিনি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও এর আগে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সেলিমা আহমাদ ইন্টার ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ইউমেনের বৈশ্বিক দূত হিসেবে কাজ করেছেন। শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে।
নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসাখাতে অবদান রাখায় ২০১৪ সালে তিনি ‘অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’ –এ ভূষিত হন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স পেয়েছিল ৬৫ বছর, তিনি স্বামী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন এবং সমাজে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তিনি এদেশের নেতৃত্ব শ্রেণির শিল্পপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ-এর স্ত্রী। মাতলুব আহমাদ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল নিলয় গুরুপের চেয়ারম্যান।
তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।