

বর্তমান সরকার অর্থাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ প্রথম বাজেট ঘোষণার পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে কোন প্রভাব পড়েনি। অনেকের ধারণা ছিল বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তাৎক্ষনিক ওঠানামা দেখা যেতে পারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাস্তবে বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই বজায় রয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে; কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বা হ্রাস চোখে পড়েনি। মৌসুম না হওয়ায় কিছু সব্জির দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও সামগ্রিক বিবেচনায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
ভোগ্যপণ্য বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাজেটে কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর মতো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত ছিল না। যার ফলে কর বা শুল্ক বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্য মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাননি অসাধু ব্যবসায়ীরা।
আবার বাজার সংশ্লিষ্টরা এ-ও বলছেন, এবারের বাজেটে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে ধান, চাল, গম, আলু হাঁস-মুরগি, মাছ, পেয়াজ,রসুন, আদা, লবন, চিনি,ভোজ্যতেলসহ অন্তত ৬০ টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসকর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট প্রস্তাবের পর এসব পণ্যের দাম বাজারে আরও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর কোন দৃশ্যমান প্রভাব এখনো খুচরা বাজারেপড়তে দেখা যায়নি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর কাপ্তানবাজার, রায়সাহেব বাজার, কাওরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ, মুরগি, ডিম ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু কিছু সবজির দাম কমেছে।
বাজার অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৫৫-৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার দামও এই সীমার মধ্যেই রয়েছে। পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০–৫০ টাকা এবং পটল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০-১৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩৪০–৩৬০ টাকায়। ডিমের দামও স্থিতিশীল। ডজনপ্রতি ১৩০-১৪০ টাকার মধ্যে ডিম বিক্রি হচ্ছে।
মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। পেঁয়াজ ৪০–৪৫ টাকা কেজি, দেশি রসুন ৮০–১০০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১২০–১৪০ টাকা এবং আদা ১৪০–১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও ২০-৩০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজেটের পর কর কমানোর প্রস্তাব থাকলেও তার প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি। আগের দামে কেনা পণ্য বিক্রি হওয়ায় খুচরা বাজারে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসেনি। তবে, পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলে শিগগিরই তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বড় কোনো শুল্ক বা কর বাড়ানো হয়নি। বরং ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, লবণ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎস্যে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন তারা। তবে, কর ছাড়ের সুফল দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে বাজার নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন তারা।