
ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে গত মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি শুরু করেছে ‘ঢাকা মহানগর পুলিশ’ (ডিএমপি)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গত মে মাসে ৬৭২টি মামলা হয়েছে এআই ভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় রাজধানীতে মোট ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে এআইভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। এসব মামলায় মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান। সরকারি-বেসরকারি বা পুলিশ সদস্য—যেই আইন ভঙ্গ করবেন, তাঁর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদস্যদেরও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে হুটার ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন না মানার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনে হুটার ব্যবহার করার সুযোগ নেই।
এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্ধারিত লেন অতিক্রম, লেন ব্লক করা কিংবা অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে শনাক্ত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই-বাছাই করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মে মাসে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সড়ক পরিবহন আইন-সংক্রান্ত ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এসব মামলায় একজনকে কারাদণ্ড এবং অন্যদের ক্ষেত্রে মোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই সময়ে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫ হাজার ২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এসব মামলায় ৫ হাজার ৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।