

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাস্তবতায় সরকার গঠন করেছে দলটি।সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পরেও দেশে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতির উল্লেখ্যযোগ্য উন্নতি হয়নি জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জারনালিস্ট’ (সিপিজে)।
তারা সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের চক্র ভেঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর এই আহ্বান জানাল আন্তর্জাতিক সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২জুন)সিপিজের ওয়েব সাইটে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, আটক সাংবাদিকদের মুক্তি এবং দমনমূলক আইন সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে এক সরকার থেকে আরেক সরকার পরিবর্তনের পরও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের চক্র অব্যাহত রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি এখনও চলছে।
সংগঠনটি বর্তমান সরকারের কাছে উত্থাপিত ১০ দফা সুপারিশে বলেছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সাংবাদিকতার ব্যবহার না করা, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত, সাইবার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংস্কার এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণমূলক খসড়া আইন বাতিল বা সংশোধন করা জরুরি।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়েও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ, অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থা সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মানলা মোকাবেলায় কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।
সিপিজে আরও বলেছে ভিন্ন ভিন্ন সরকারের সময় সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, নজরদারি ও হয়রানির ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়মুক্তি রয়ে গেছে। ফলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ওঠানামা করছে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দমন-পীড়ন বন্ধে বর্তমান সরকারের প্রতি দশটি সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে।

১. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা: সিপিজে বলেছে, চব্বিশের আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনার সমর্থক হিসেবে বিবেচিত সংবাদ প্রকাশ করা বহু সাংবাদিককে আটক বা অভিযুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, এবং দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের মামলা। তারা চব্বিশের আগস্ট বা সেপ্টেম্বর থেকে আটক রয়েছেন। চলতি বছরের ১১ই মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ রূপা ও শাকিল আহমেদকে অধিকাংশ মামলায় জামিন দিলেও অন্য মামলায় তারা এখনো আটক রয়েছেন।
২৮শে মে তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পূর্ণ হয়। সেদিন এডিটর কাউন্সিল-এর একটি প্রতিনিধিদল সরকারের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা হস্তান্তর করেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সিপিজে বলেছে, এসব মামলা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংগঠনটি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যালোচনা, সাংবাদিকতার কাজসংক্রান্ত মামলায় জামিনের বিরোধিতা না করা, একাধিক মামলা ও গণহারে এফআইআরের চর্চা বন্ধ এবং রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় সাংবাদিকদের বিচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
২. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ব্যবহার বন্ধ: সিপিজে বলেছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্তত ২৫ জন সাংবাদিক আইসিটি’র তদন্তের আওতায় রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা হাসিনা সরকারের প্রতি তাদের কথিত সমর্থনের সঙ্গে সম্পর্কিত। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশের সংবাদ প্রচার মানবতাবিরোধী অপরাধে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ এনে ১৪ই মে রূপা ও বাবুকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সিপিজে আইসিটি’র মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে শাস্তিযোগ্য না করা, সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্ট সব মামলা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা এবং সাংবাদিকতার কাজে নৃশংস অপরাধের অভিযোগ প্রয়োগ রোধে সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
৩. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই সাংবাদিকদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা: সিপিজে বলেছে, হাসিনা সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকরা খুন, হামলার শিকার, নজরদারি ও আটকের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ঘটনার বাস্তবতা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে মুখ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে।
৪. সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমকে মব থেকে সুরক্ষা দেয়া: সিপিজে বলেছে, বাংলাদেশে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো সংগঠিত গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের সহিংসতা ও ভয়ভীতির মুখে রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের অস্থিরতার সময় দেশের দুই বৃহত্তম সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সাংবাদিকরা সাময়িকভাবে অগ্নিগর্ভ কার্যালয়ে আটকা পড়েন এবং উভয় সংবাদমাধ্যম মুদ্রিত ও অনলাইন প্রকাশনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, সময় টিভির কার্যালয়ে ঢুকে সাংবাদিকদের অপসারণের দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদকরা বিক্ষোভ কাভার করতে গিয়ে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। সংগঠনটি এসব সহিংসতার নিন্দা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
৫. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার: সিপিজে বলেছে, নবনির্বাচিত সরকার প্রণীত সাইবার সুরক্ষা আইনেও (২০২৬) আগের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ (২০২৫), সাইবার নিরাপত্তা আইন (২০২৩) এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮) এর মতো দুর্বল বিচারিক তদারকির বিষয়গুলো বহাল রয়েছে। মূলত আগের আইনগুলো সংবাদমাধ্যম দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি প্রতিস্থাপন বা উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। একই সঙ্গে বর্তমান ও পূর্ববর্তী সাইবার অপরাধ আইনের অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়া গঠন এবং সেসব মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে।
৬. সন্ত্রাসবিরোধী আইন (২০০৯) সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার বন্ধ করা: সিপিজে বলেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন (২০০৯), বিশেষ ক্ষমতা আইন (১৯৭৪) এবং সরকারি গোপনীয়তা আইন (১৯২৩)-এর মতো আইন সাংবাদিকদের আটক ও বিচারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কারণে ওই আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিন পান। এ ছাড়া ২০২১ সালের মে মাসে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সরকারি নথি চুরি ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়। সিপিজে’র দাবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে এসব আইন উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করতে হবে।
৭. খসড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন: সিপিজে বলেছে, খসড়া জাতীয় সমপ্রচার কমিশন অধ্যাদেশ এবং জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ (২০২৬) গণমাধ্যমের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। যা হাসিনার আমলের মতো বর্তমানেও সমপ্রচার ও সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান খসড়া অধ্যাদেশগুলো গ্রহণ করা উচিত নয়। পরিবর্তে, স্বচ্ছ এবং অংশীজনভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সাংবাদিকদের দমনে ব্যবহৃত পুরনো আইন ও নজরদারি কাঠামো সংশোধন: সিপিজে বলেছে, সরকারকে সরকারি গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩ বাতিল অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ফৌজদারি মানহানি-সংক্রান্ত বিধান বাতিল এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ সংশোধন করে তা যাতে সাংবাদিকদের ইচ্ছামতো আটক রাখতে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর নজরদারি ও যোগাযোগে আড়িপাতা-সংক্রান্ত বিধানগুলো সংস্কার করে স্বাধীন বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরোয়ানাবিহীন আড়িপাতা বন্ধ করতে হবে।
৯. সাংবাদিকদের হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা: সিপিজে বলেছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি) ১৬৮ সাংবাদিকের স্বীকৃতি বাতিল করে। একই সঙ্গে সমালোচনামূলক সম্পাদকদের শাস্তি দিতেও এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও বলেছে, সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও সক্ষমতা ক্ষয় করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একযোগে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়, যা জনসম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে কৌশলগত মামলা (এসএলএপিপি) হিসেবে পরিচিত। সিপিজে বলেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের স্বীকৃতি বাতিল করা যাবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে এসএলএপিপি-বিরোধী সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে মামলা খারিজের সুযোগ চালু করতে হবে।
১০. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হেয়প্রতিপন্ন বন্ধ করা: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ট্যাগিং বন্ধে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। সংগঠনটির মতে, সাংবাদিকদের ট্যাগিং দেয়া শুধু সাংবাদিকদের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং তাদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এবং তথ্যসূত্রগুলোকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ ধরনের অপপ্রচারের কারণে অনেক সাংবাদিক দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং অন্যরা হুমকির মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।